তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও কর্মশালার প্রধান অতিথি ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম বলেছেন, টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইনে শতভাগ সফলতা অর্জন করতে হলে সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রচার ও প্রচারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেতার, বিটিভি, গণযোগাযোগ, পিআইডি শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়, টিকাদানের প্রচারণায় বেসরকারি গণমাধ্যমও শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে; আপনারা তার ব্যতিক্রম নয়।
রোববার সকালে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট আয়োজিত ‘ডিভিশনাল লেভেল কনসাল্টেশন ওয়ার্কশপ অন টিসিভি ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন ২০২৫ উইথ মিডিয়া পিপল’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অতিরিক্ত সচিব এসব কথা বলেন। গণমাধ্যমকর্মীসহ প্রায় অর্ধশতাধিক অংশগ্রহণকারী এ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মূল কাজ ঠিকাদানের সাথে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় প্রচারণার কাজটি করছে। সারা দেশে ১২ অক্টোবর থেকে টিকাদান শুরু হয়েছে। এ টিকাকে নিয়ে কিছুটা গুজব ছড়িয়েছিল। আপনাদের সকলের সহযোগিতায় আমরা সেটা কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। প্রচার-প্রচারণায় যথেষ্ট সচেতন হয়েছি। আরো বেশি সচেতনতা সৃষ্টি করা, আমাদের প্রচারের কাজটি আরও বেগবান করা, শিশুদের টিকা গ্রহণে গণমানুষকে উদ্বুদ্ধ করা—এসবের জন্যই আপনাদের নিয়ে আজকের এই কর্মশালা।
অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার তাহমিনা আক্তারের সভাপতিত্বে কর্মশালায় ডা. নুসরাত আজরীন মহসীন টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৫-এর ওপর একটি তথ্যবহুল প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। এতে জানা যায়, দেশের আটটি বিভাগের মধ্যে ময়মনসিংহ বিভাগে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ অর্জন হয়েছে। এটি প্রায় ৯৫.০৩%। যেখানে জামালপুর জেলায় ৯৪.২৯%, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনে ৯১%, ময়মনসিংহ জেলায় ৯৫.৮৬%, নেত্রকোনা জেলায় ৯২.৬৯% এবং শেরপুর জেলায় ৯৯.১%। ৪ কোটি ৩৭ লক্ষ ৯৪ হাজার ৭৯০টি শিশুর টিকার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সরকার এই ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে। শুরু থেকে এ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রায় ১ কোটি ৯৩ লক্ষ টিকাদান সম্পন্ন হয়েছে। সেদিক থেকে অর্জন খুবই ভালো। ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের টাইফয়েড টিকাদানে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে অষ্টম। টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় ৬ হাজার শিশু মারা যায়।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক মীর আকরাম উদ্দীন আহম্মদের সঞ্চালনায় কর্মশালাটি উদ্বোধন করেন (ভার্চুয়ালি) জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মুহম্মদ হিরুজ্জামান, এনডিসি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন, ময়মনসিংহ বিভাগের পরিচালক (স্বাস্থ্য) ড. প্রদীপ কুমার সাহা, ময়মনসিংহ আঞ্চলিক তথ্য অফিস (পিআইডি) এর উপপ্রধান তথ্য অফিসার মো. মনিরুজ্জামান, ইউনিসেফ ময়মনসিংহের প্রধান মো. ওমর ফারুক, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মো. মারুফ নাওয়াজসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ, সিভিল সার্জন ডা. ফয়সল আহমেদ, ইউনিসেফের এসবিসি স্পেশালিস্ট এআরএমএম কামাল, হেলথ অফিসার আলমগীর হোসেনসহ ময়মনসিংহের জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের গণমাধ্যম কর্মীবৃন্দ।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন