ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বিএনপির নবগঠিত কমিটিতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অন্তর্ভুক্তি ও ত্যাগী নেতাদের বঞ্চনার অভিযোগে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল করেছেন পদবঞ্চিত বিএনপি নেতাকর্মীরা।
রোববার বিকেলে উপজেলা সদরে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় বিএনপির কার্যালয় থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে পৌরসদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরাস্তায় প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। পরে সেখানে মশাল মিছিলও করা হয়।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর রাতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা ও সদস্য সচিব একেএম কিবরিয়া স্বপন আলফাডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর বিএনপির ১০১ সদস্যবিশিষ্ট পৃথক দুটি কমিটি ঘোষণা করেন।
অভিযোগ উঠেছে, নবগঠিত কমিটিতে ত্যাগী ও দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির ১১ নম্বর সহসভাপতি করা হয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মিয়া আসাদুজ্জামানকে, যিনি ২০২১ সালে নৌকা প্রতীকে টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
একই কমিটিতে ৫ নম্বর সহসভাপতি হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য আবদুল ওহাব ওরফে পান্নু, আর ৪ নম্বর সহসভাপতি হয়েছেন উপজেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। তাঁকে সহ-সাধারণ সম্পাদকও করা হয়েছে, যিনি গত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুর রহমানের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিলেন।
এছাড়া সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন গোপালপুর ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওহিদ শিকদার, সহ-সমবায়বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়ন যুবলীগের প্রচার সম্পাদক মো. জাকার। সদস্য হিসেবে (ক্রমিক ৯৮) রাখা হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার শ্যালক নুরুল ইসলামকে।
পৌর বিএনপির ১০১ সদস্যের কমিটিতে ফরিদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি কামরুজ্জামান কদরকে প্রচার সম্পাদক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া পদবঞ্চিত বিএনপি নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন বিএনপির দুর্দিনে যারা পাশে ছিলেন, তাদের উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগের পরিচিত নেতা-কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। খন্দকার নাসিরুল ইসলাম অর্থের বিনিময়ে ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে বিএনপিকে বিক্রি করেছেন।
তারা দাবি করেন, খন্দকার নাসিরুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি বাতিল করতে হবে এবং ত্যাগী, পরীক্ষিত নেতাদের নিয়ে নতুন করে কমিটি পুনর্গঠন করতে হবে।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই কমিটি বাতিল না হলে অচিরেই কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।
এদিকে ফরিদপুর–১ আসনে (বোয়ালমারী, মধুখালী ও আলফাডাঙ্গা) বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল দীর্ঘদিনের। একপক্ষে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, অন্যপক্ষে রয়েছেন ছাত্রদল থেকে উঠে আসা সাবেক ভিপি ও ফরিদপুর–১ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী সামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু।
নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, নবগঠিত কমিটিতে সামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু গ্রুপের ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।
বিক্ষোভ ও মশাল মিছিলে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খোশবুর রহমান খোকন, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম দাউদ, নজরুল ইসলাম, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক সৈয়দ মিজানুর রহমান, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মাহমুদুল হাসান ইয়াদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এম এ আজিজ, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান খান ইয়ানুর, উপজেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক আলামিন ইসলাম নাজমুল ও জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মুসা প্রমুখ।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন