কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর দুর্গম চরে জমি দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের ভয়াবহ গোলাগুলিতে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহত আমান মণ্ডলের বাবা মিনহাজ মণ্ডল বুধবার বিকেলে দৌলতপুর থানায় বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় কাকন বাহিনীর প্রধান কাকনসহ ২৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর, রাজশাহীর বাঘা ও নাটোরের লালপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী মরিচা ইউনিয়নের চৌদ্দহাজার মৌজার নিচ খানপাড়া এলাকায় দৌলতপুরের কাকন বাহিনী ও রাজশাহীর বাঘার মণ্ডল বাহিনীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনজন নিহত হন এবং আরও দুজন গুরুতর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে বাঘা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ গুলির খোসা, কয়েকটি তাজা গুলি ও রক্তমাখা ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরে রাজশাহী ও খুলনা রেঞ্জের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিশ্চিত করেন যে এলাকা কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার আওতাধীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা হলেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার নিচ খানপাড়ার মিনহাজ মণ্ডলের ছেলে আমান মণ্ডল (৩৬) এবং শুকুর মণ্ডলের ছেলে নাজমুল মণ্ডল (২৬)। তারা মূলত কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন, তবে নদীভাঙনের কারণে বাঘায় অস্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার সকালে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার রায়টা পদ্মা ঘাট থেকে লিটন (৩০) নামে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা নৌ পুলিশ। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত লিটন বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ঘোষপাড়া গ্রামের মৃত জামরুল ঘোষের ছেলে এবং কাকন বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ বলেন, “নিহত আমান মণ্ডলের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পদ্মার চরাঞ্চলটি দুর্গম হওয়ায় এখনো কাউকে আটক করা যায়নি, তবে পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।”
ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিশ্চিত করা হয়েছে এটি দৌলতপুর থানার আওতাধীন। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ গুলির খোসা ও রক্তাক্ত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। “কাকনসহ ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২০–৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে,” যোগ করেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত কাকন বাহিনীর প্রধান কাকন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মাঝদিয়াড় গ্রামের মৃত জমির উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা নদীর বালুমহাল ও চরাঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন। বালুমহাল দখল ও প্রভাব বজায় রাখতে তিনি ‘কাকন বাহিনী’ নামে একটি সশস্ত্র দল গঠন করেন, যার সক্রিয় সদস্য সংখ্যা ৪০ জনেরও বেশি। দলটি দীর্ঘদিন ধরে কুষ্টিয়া, পাবনা, রাজশাহী, বাঘা ও নাটোরের পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন