গোপালগঞ্জ-০১ (কাশিয়ানী ও মুকসুদপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম বলেছেন, সাধারণ জনগণ আমাকে নির্বাচিত করলে এলাকার সকল সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের সুখ–দুঃখের অংশীদার হয়ে থাকতে চাই এবং সুখে-দুঃখের সাথি হিসেবে কাজ করতে চাই। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে অসহায় মানুষের পাশে থেকে তাদের কল্যাণে কাজ করবেন এবং দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাসসহ সব অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলবেন, ইনশাআল্লাহ।
রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী ও মুকসুদপুরে সকল ইউনিয়নের সাবেক ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র এবং কাউন্সিলরদের নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন মুকসুদপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র সাজ্জাদ করিম মন্টু মিয়া এবং সঞ্চালনা করেন সাজাইল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ ফরিদুল ইসলাম।
‘তারুণ্য নির্ভর’ আগামীর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন সেলিমুজ্জামান। তিনি বলেন, বিএনপির দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে, ভেদাভেদ ভুলে, দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে দলীয় স্বার্থে কাজ করতে হবে।
সেলিমুজ্জামান আরও বলেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবারের ভোট দিনের মধ্যে হবে, রাতে হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৮ সালে চার দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে গোপালগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তখন দেখেছেন, অন্যান্য জেলায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্বাভাবিক ও সুষ্ঠুভাবে হলেও গোপালগঞ্জ-১ আসনে হয়নি। নির্বাচনের দিন বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখেছেন—ধানের শীষের কোনো এজেন্ট পাওয়া যায়নি। অথচ একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশে সকলের স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার ও মত প্রকাশের সুযোগ থাকা উচিত। ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতেও হয়েছে, এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালেও ডামি নির্বাচন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হব—এ আশা ব্যক্ত করছি। আমাদের প্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান যে বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছেন, আমি সেই প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হতে চাই। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, মুসলমান বা হিন্দু—সবাইকে কাশিয়ানী-মুকসুদপুরের মানুষ হিসেবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বসবাস করতে হবে। এছাড়া নিরীহ ও নির্দোষ কোনো মানুষ যেন মিথ্যা মামলা ও হয়রানির শিকার না হয়, এজন্য প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করবেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুস ছালাম খান, সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম রাজু, খান্দারপাড়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মো. সাহিদুল ইসলাম মুন্সী, কাশালিয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান অশোক মৃধা, বাঁশবাড়িয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সোহেল, বহুগ্রাম ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ডা. রঞ্জিত, কাশিয়ানী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মোস্তফা মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. সেলিম, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাহিত্য ও প্রকাশনা সহ-সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাপ্পী, রাতইল ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আঞ্জুরুল ইসলাম আঞ্জু, রাতইল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সুরঞ্জন বিশ্বাস, মোহাম্মদ সেলিম উজির, মাহমুদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নান্নু মোল্লাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বারবৃন্দ।
সভায় বক্তারা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিমের নেতৃত্বে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন