চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বিক্রয় প্রতিনিধি রুহুল আমিনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আলোচিত আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার মো. রফিকুল ইসলাম রবিন ওরফে রবিন ডাকাত (৩১) অবশেষে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
সোমবার রাতে র্যাব–১১ এর একটি আভিযানিক দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ সাইনবোর্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার রবিন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার চান্দিরগাঁও এলাকার হাজী শামসুন নুর পাটোয়ারীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে এর পূর্বে হত্যা ও ডাকাতিসহ ১৪টি মামলা রয়েছে।
ডাকাত রবিন (১১ নভেম্বর) মঙ্গলবার রাত প্রায় ১০টার দিকে ফরিদগঞ্জ উপজেলার রুস্তমপুর এলাকার সমিতির পোলের গোড়ায় সিটি কম্পানির বেঙ্গল গ্রুপের বিক্রয় প্রতিনিধি রুহুল আমিনের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে ডাকাতি করে। তারা রুহুল আমিনের কাছ থেকে নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে রুহুল আমিন ‘ডাকাত, ডাকাত’ বলে চিৎকার করে। চিৎকারে বিব্রত হয়ে ডাকাত রবিন লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই নিহত হন রুহুল আমিন। এরপর তারা বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে আত্মগোপনে থাকে।
গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত রুহুল আমিনের বাবা অভিযোগ দায়ের করে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন।
রুহুল আমিন নিহত হওয়ার পর ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একাধিক অভিযান পরিচালনা করে। ডাকাত সর্দার রবিন ও তার সহযোগী অত্যন্ত ধুরন্ধর হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। গুলি করে হত্যার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। আলোচিত ঘটনাটির রহস্য উন্মোচন ও জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি চালায়। আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে রবিনের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডাকাত সর্দার রবিনকে আজ ফরিদগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। তার সহযোগী পলাতক আসামির সন্ধানে র্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
ডাকাত ও হত্যা মামলার আসামি রবিন র্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহ্ আলম জানান, র্যাব রবিনকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে। বিকেলের মধ্যে ফরিদগঞ্জ থানা প্রেরণ করবে র্যাব।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন