শিবচরে কমলার বাম্পার ফলন

মশিউর কাজী, শিবচর (মাদারীপুর) প্রকাশিত: নভেম্বর ২২, ২০২৫, ০২:৫২ পিএম
শিবচরে কমলার বাম্পার ফলন

মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া মৃধাকান্দি এলাকায় প্রায় ৬ বছর আগে দেড় বিঘা জমিতে লাগানো হয় ছোট জাতের কমলা গাছ। গাছ লাগানোর পর প্রথমত ফলন আসতো না। ২০২১ সালের শেষের দিকে বাবা শওকত হোসেনের বাগানের হাল ধরেন রাসেল হোসেন। কমলা চাষ নিয়ে ইন্টারনেট ঘেটে পড়াশোনা শুরু করেন! শুরু হয় নতুন করে পরিচর্যা। 

২০২৪ সালে বাগান ভরে আসে কমলার ফুল! পরিণত কমলা রঙিন রঙ ধারণ করে। স্বাদে বেশ মিষ্টিও। বাজারে থাকা বিদেশী কমলার চেয়ে সুমিষ্ট স্বাদ হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে সাড়া পড়ে যায় রাসেলের কমলা! চলতি বছর আবহাওয়া জণিত কারণে ফলন কিছুটা কম হলেও এবছর স্বাদ আরও বেড়েছে। টকভাবে কমে গিয়ে বেশ মিষ্টি এবার রাসেলের বাগানের কমলা। পাইকারি বিক্রির পাশাপাশি খুচরা বিক্রি করছেন দেদারছে। বাজারে ২৮০/৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন নিজস্ব বাগানের কমলা। অনেকেই বাগান থেকে সরাসরি কমলা ক্রয় করতে ছুটে আসেন। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফরমালিন মুক্ত কমলা কিনতে এবং বাগান দেখতে প্রতিদিনই অসংখ্য দর্শনার্থীরা আসেন। বাগানে ঘুরাঘুরি শেষে কমলা কিনে বাড়ি ফিরেন। বিশেষ করে স্থানীয় এই কমলার বাগান দেখতে দূর-দূরান্তের গ্রাম থেকে অনেকেই আসেন দেখতে। 

কমলাচাষী মো. রাসেল হোসেন বলেন, ১ বিঘা ৩৩ শতাংশ জমিতে ৬০ টি কমলার গাছ লাগানো হয়েছিল। আবহাওয়া জণিত কারণে কয়েকটি গাছ মরে গেছে। এছাড়া সব গাছেই ফলন এসেছে। গত বছর প্রচুর ফলন এসেছিল। এবছর একটু কম। নিজ এলাকাতেই বিক্রি হয় এই বাগানের কমলা। কমলার পাশাপাশি মাল্টা পেয়ারসহ অন্যান্য ফলও আছে। সরকারি সহযোগিতা পেলে আরও ভালো কিছু করা যাবে বলেও তিনি বলেন।

শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের কৃষি অফিস সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিচ্ছে। তাছাড়া, আশাকরি আগামীতে ন্যায্যমূল্যে ভালো চারাসহ কৃষি ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবো।

জেএইচআর