অপরাধ দমনে জনসচেতনতা ও সহযোগিতার আহ্বান ওসি খালিদ হাসানের

পূর্বাচল (গাজীপুর) প্রতিনিধি প্রকাশিত: নভেম্বর ২৫, ২০২৫, ০৭:৫৪ পিএম
অপরাধ দমনে জনসচেতনতা ও সহযোগিতার আহ্বান ওসি খালিদ হাসানের

সম্প্রতি একটি তুলার গুদামে অগ্নিকাণ্ডের সময় মাথায় বস্তা নিয়ে আলোচনায় আসা গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা মো. খালিদ হাসান এলাকাবাসী, সাংবাদিক সমাজ ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অপরাধ দমনে সক্রিয় সহযোগিতা চান। তিনি বলেন, “আমি আপনাদেরই একজন। পূবাইলকে নিরাপদ রাখতে জনগণের সম্মিলিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

ওসি খালিদ হাসান জানান, থানার নথিপত্র বিশ্লেষণে এলাকায় মাদকসেবন ও মাদককারবারসহ চুরি, ছিনতাই, দস্যুতা ও ডাকাতির মতো অপরাধ প্রবণতা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। এসব অপরাধের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে মাদককে চিহ্নিত করেন তিনি।

বর্তমানে পূবাইল থানায় একজন ওসি, ৫ জন এসআই, ৬ জন এএসআই ও ৩৮ জন কনস্টেবলসহ মোট ৪২–৪৩ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। বিশাল জনপদে সীমিত জনবল দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে জনগণের সহযোগিতা অত্যাবশ্যক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অপরাধ প্রতিরোধে থানা এলাকাবাসীর জন্য কয়েকটি দিকনির্দেশনা দেন ওসি মোল্লা মো. খালিদ হাসান যার মধ্যে রয়েছে ঘরের জানালা, গেট ও প্রবেশপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখা, জরুরি প্রয়োজনে প্রতিবেশী ও থানার কর্মকর্তাদের নম্বর ডায়াল লিস্টে রাখা, বিপদের মুহূর্তে ভয় না পেয়ে দ্রুত সাহায্য চাওয়া এবং ঘটনার সময় সাহসিকতার সঙ্গে পুলিশকে সহযোগিতা করা।

এ ছাড়া মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের নাম–ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরসহ তালিকা তৈরি করে থানার সামনে স্থাপিত তথ্যবক্সে জমা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। “প্রাপ্ত সব তথ্য গোপন রাখা হবে”— যোগ করেন ওসি খালিদ।

১২–১৮ বছর বয়সী কিশোরীদের বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। এ বয়সী মেয়েদের সঠিক দিকনির্দেশনা, পড়াশোনায় মনোযোগ, দক্ষতা অর্জন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ ও শিশু আইন, ২০১৩ সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন করার ওপর জোর দেন।

কিশোর ছেলেদের বখে যাওয়া বা অপরাধে যুক্ত হওয়া প্রতিরোধে পরিবারকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেন ওসি। স্বামী–স্ত্রীর অবহেলা, পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি ও অস্থিরতা পরিবারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিশেষ করে প্রবাসী পরিবারগুলোকে নিয়মিত যোগাযোগ ও পারস্পরিক বিশ্বাস ধরে রাখার পরামর্শ দেন।

নাগরিকদের উদ্দেশে ওসি মোল্লা মো. খালিদ হাসান বলেন, “নিজে অপরাধ করবো না, অপরকে অপরাধ করতে দেব না। আইনকে শ্রদ্ধা করবো এবং পুলিশকে সহযোগিতা করবো।”

তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন, নাগরিক ও পুলিশের যৌথ উদ্যোগে পূবাইলকে মাদকমুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ এলাকায় রূপান্তর করা সম্ভব।

ইএইচ