উদ্বোধন করা হলেও কাজ বাকি ৪০ শতাংশ

লালখান বাজার–পতেঙ্গা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ এখনও ধীরগতির

আশিকুর রহমান, চট্টগ্রাম প্রকাশিত: নভেম্বর ২৭, ২০২৫, ০৮:৩০ পিএম
লালখান বাজার–পতেঙ্গা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ এখনও ধীরগতির

চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটির কাজ এখনো ধীরগতিতে চলছে। উদ্বোধন করা হলেও উড়ালসড়কটির কাজ এখনো ৪০ শতাংশ বাকি। এই সড়কটির কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় এখনো মিটছে না নগরবাসীর যানজট সমস্যা।

উড়ালসড়কটি লালখান বাজার থেকে শুরুর কথা থাকলেও লালখান বাজারের মূল সড়ক থেকে সেতুতে ওঠার পথ এখনও তৈরিই হয়নি।

এক্সপ্রেসওয়েটির নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান সিডিএ বলছে, প্রকল্পের কাজ শুরুর পর চট্টগ্রাম বন্দরের আপত্তি, রেলওয়ের আপত্তি, জমি অধিগ্রহণের জন্য অপেক্ষা, ট্রাফিক বিভাগের অনুমতি না পাওয়া, লালখান বাজার অংশের নকশা নিয়ে আপত্তি, কোভিডের সময় কাজে ধীরগতি, বিকল্প সড়ক চালু করতে সময়ক্ষেপণ এবং বন্দর সংলগ্ন এলাকায় নকশা পরিবর্তনসহ নানান কারণে দেরি হয়। প্রাক-সমীক্ষা অনুযায়ী উড়ালসেতুটি ব্যবহার উপযোগী করতে প্রকল্পের ১০টি র‌্যাম্প বাদে আরও র‌্যাম্প প্রয়োজন হবে। এতে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে প্রকল্পের নতুন ব্যয়।

সরজমিনে দেখা যায়, লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে ১০টি র‌্যাম্প রয়েছে। এর মধ্যে নগরের পতেঙ্গামুখী অংশের আগ্রাবাদ জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘরের সামনে নামার র‌্যাম্প এবং আগ্রাবাদে ডেবার পাড়ে পতেঙ্গামুখী ওঠার র‌্যাম্প দুটির কাজ এখনো শুরুই হয়নি।

চারটির কাজ শেষ হয়েছে। পতেঙ্গা থেকে লালখান বাজারমুখী অংশে নিমতলা মোড়ে নামা–ওঠার দুটি র‌্যাম্প, টাইগারপাসে আমবাগানমুখী নামার একটি র‌্যাম্প এবং লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গামুখী অংশে ফকিরহাটে নামার একটি র‌্যাম্পের কাজ শেষ।

বাকি চারটির কাজ চলমান। এর মধ্যে নগরের চট্টগ্রাম ইপিজেডের সামনে দুই অংশে ওঠা–নামার দুটি, কর্ণফুলী ইপিজেডের সামনে ওঠার একটি এবং জিইসি মোড়ে পতেঙ্গামুখী একটি ওঠার র‌্যাম্প।

লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত সাড়ে ১৫ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১৭ সালের আগস্টে একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। ওই সময় এ প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় তিন হাজার ২৫০ কোটি টাকা। মেয়াদ ছিল তিন বছর। পরে দুবার বাড়িয়ে বর্তমানে প্রকল্প ব্যয় চার হাজার ৩১৫ কোটি টাকা ছুঁয়েছে। তিন দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।

সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম বলেন, “ফ্লাইওভারটি করা হয়েছে বিমানবন্দরে সহজে যাতায়াতের জন্য। এটির সুফল ইতোমধ্যে নগরবাসী পেতে শুরু করেছে। কয়েকটি র‌্যাম্প স্থগিত রাখা হয়েছে। তাছাড়া মামলা–জটিলতা, জায়গা অধিগ্রহণে প্রতিবন্ধকতার কারণে কয়েকটি র‌্যাম্পের কাজ ঝুলে ছিল। আবার টাইগারপাস ও আগ্রাবাদ র‌্যাম্প নিয়ে পাবলিক প্রতিবাদও ছিল। বাকি র‌্যাম্পগুলোর কাজ পাঁচ–ছয় মাসের মধ্যে শেষ হবে।”

চেয়ারম্যান বলেন, “বর্তমানে প্রকল্পে যে ব্যয় ধরা হয়েছে, তাতে পুরো কাজ শেষ হবে না। বরাদ্দ বাড়াতে হবে। আমরা ৯টি র‌্যাম্প তৈরি করে এ প্রকল্পটি শেষ করবো। বাকি যে র‌্যাম্প থাকবে, সেগুলোর সঙ্গে আমরা কনসালট্যান্ট দিয়ে আর কোথায় কোথায় র‌্যাম্পের প্রয়োজন হবে সেটা চিহ্নিত করে সিডিএর নিজস্ব অর্থায়নে সেকেন্ড ফেজে করার পদক্ষেপ নেবো।”

সেকেন্ড ফেজের সময় জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সেকেন্ড ফেজ কখন হবে সেটা আপাতত বলা যাচ্ছে না। তবে ৯টি র‌্যাম্প চালু হলে পাবলিক অনেক সুবিধা পাবে।”

ইএইচ