রাজবাড়ীর পাংশায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে আহত হওয়ার পর এক কৃষক অনন্য সিদ্ধান্ত নেন। আহত অবস্থায় নিজেকে যে সাপ দংশন করেছে, সেই সাপটিকেই জীবিত ধরে বোতলে ভরে তিনি হাসপাতালে নিয়ে যান। স্থানীয়ভাবে ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আক্রান্ত কৃষক হেলাল বিশ্বাস বর্তমানে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তিনি আশঙ্কামুক্ত।
ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের শাহামীরপুর চর এলাকায়। ধানের ক্ষেতে কাজ করার সময় হঠাৎ ঝোপ থেকে লাফিয়ে উঠে হেলালের পায়ে কামড় দেয় একটি সাপ। প্রথমে স্থানীয়রা মনে করেন এটি সাধারণ সাপ, কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই হেলালের পা ফুলে ওঠা এবং মাথা ঘোরা শুরু হয়।
দংশনের পর হেলাল আতঙ্কিত না হয়ে আশপাশে থাকা শ্রমিকদের সঙ্গে মিলে সাপটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। কিছু সময়ের মধ্যেই সাপটি ঝোপে দেখা গেলে হেলাল এবং আরও তিন কৃষক সেটিকে কাঠির সাহায্যে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একটি প্লাস্টিকের বোতলে আটকে দেন। পরে বোতলটি দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
হেলালের চাচাতো ভাই বাদশা বিশ্বাস জানান, সাপ ধরার সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণ ছিল যাতে ডাক্তাররা সঠিক চিকিৎসা দিতে পারেন। তাই সবাই মিলে সাপটি বোতলে ভরে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হেলালকে ভর্তি করলে চিকিৎসক এবং নার্সরা জীবিত সাপটি দেখে বিস্মিত হন। সাপটির পরিচয় শনাক্ত করার পর রোগীর শরীরে বিষের প্রভাব পরীক্ষা করে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করা হয়। চিকিৎসকরা সাপটি রাসেলস ভাইপার হিসেবে শনাক্ত করেন, যা বাংলাদেশে পাওয়া সবচেয়ে বিপজ্জনক সাপের প্রজাতির একটি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. এবাদত হোসেন বলেন, সঠিক সময়ে চিকিৎসা নেওয়ায় বড় ধরনের জটিলতা হয়নি। সাপের সঠিক পরিচয় থাকায় চিকিৎসা দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে শুরু করা সম্ভব হয়েছে।
গ্রামবাসীরা হেলালের সাহসিকতাকে প্রশংসা করছেন। শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সাপ দংশনের পর মানুষ সাধারণত ভয় পান, কিন্তু হেলাল উল্টো সাপটি ধরে রেখেছেন যাতে ডাক্তাররা সঠিক চিকিৎসা দিতে পারেন। এটি সত্যিই অসাধারণ সাহসের পরিচায়ক।
পরিবেশকর্মী ও সরীসৃপ গবেষক আব্দুল লতিফ বলেন, রাসেলস ভাইপার অত্যন্ত বিষধর এবং এতে দংশিতরা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন। তবে সাপ চিনে রাখলে চিকিৎসা আরও সহজ হয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, সাপ ধরা বা মারার চেষ্টা না করে আক্রান্তকে দ্রুত নিরাপদে হাসপাতালে নেওয়াই উত্তম।
হেলালের সহকর্মীরা জানান, সাপ ধরতে গিয়ে তারা নিজেও ভয় পান, তবে হেলালের আত্মবিশ্বাস তাদের ভয়কে কমিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে হেলালের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। প্রয়োজন হলে তাকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হতে পারে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং হেলালের সাহসিকতা জনসাধারণের মধ্যে আলোচনা ও প্রশংসার বিষয় হয়ে উঠেছে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন