টিপকাণ্ডে বরখাস্ত পুলিশ সদস্যসের পাশে জামায়াত প্রার্থী

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৪, ২০২৫, ০৬:৩৭ পিএম
টিপকাণ্ডে বরখাস্ত পুলিশ সদস্যসের পাশে জামায়াত প্রার্থী

২০২২ সালে রাজধানীর ফার্মগেটের ব্যস্ত সড়কে টিপকাণ্ডের ঘটনায় চাকরি হারানো পুলিশ কনস্টেবল মো. নাজমুল তারেকের পাশে দাঁড়ালেন মাগুরা-২ আসনের জামায়াতে প্রার্থী এমবি বাকের। ঘটনার পর নাজমুল চাকরি ফেরত না পেয়ে আর্থিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। ঠিক এমন সময় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক বাংলাদেশি নাগরিক তার পাশে দাঁড়ান। তার উদ্যোগে এম.বি. বাকের নাজমুল তারেকের বাড়ি সাজিয়ারা গ্রামে গিয়ে মানবিক সহায়তা প্রদান করেন। 

স্থানীয়দের ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিচয় ছাড়িয়ে এটি মানবিকতার দৃষ্টান্ত। 

তবে তাকে আটক, তদন্ত, এবং পরে চাকরিচ্যুত করা নিয়েও আছে সন্দেহ। আজ তিন বছর পর, বহু প্রশ্ন এখনো অনুত্তরিত তদন্তে প্রমাণ না পাওয়া সত্ত্বেও কেন চাকরি হারালেন নাজমুল? কেন অভিযোগকারীর দেয়া তথ্য ও সাক্ষ্য হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গেল? 

তদন্তের ফলকে উপেক্ষা করে কনস্টেবল নাজমুল তারেককে বরখাস্ত করা হয়। অভিযোগের পরপরই লতা সমাদ্দারের ফেসবুক আইডি অদৃশ্য হয়ে যায়, বন্ধ হয়ে যায় তার মোবাইল নম্বর। তদন্ত কমিটিও তাকে আর খুঁজে পায়নি। এ তো আরও রহস্য তৈরি করে একটি আলোচিত ঘটনার অভিযোগকারী হঠাৎ এভাবে অদৃশ্য হয়ে গেলেন কেন?

ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্য নাজমুল তারেক বলেন, শতভাগ ভিত্তিহীন অভিযোগে আমার ওপর সামাজিক আদালত বসানো হয়েছিল। আমার কথা কেউ শুনল না। আমার বউ-বাচ্চা নিয়ে কষ্টে দিন কাটিয়েছি। পরে তিনি লতা সমাদ্দারসহ জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুবর্ণা মোস্তফা, অভিনেতা মিলন, সাজু খাদেম, চয়নিকা চৌধুরী, আশনা ভাবনা, জ্যোতিকা জ্যোতিসহ মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছি। ২০২৫ সালের ক্ষমতার পরিবর্তনের পর বহু ভুক্তভোগী বিচার পেয়েছেন। অনেককে চাকরিতেও ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। কিন্তু নাজমুল তারেকের ফাইলটি এখনো পড়ে আছে।

তার প্রশ্ন যখন তদন্তেই প্রমাণ পেল না যে আমি কোনো কটূক্তি করেছি, তখন আমাকে কেন ফেরানো হচ্ছে না? আমার কি ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার নেই?

নাজমুলের দাবি, আমি ন্যায় চাই, চাকরি চাই। তিনি আরও বলেন, আমি কোনো অপরাধ করিনি। আমাকে মিথ্যাভাবে সাজানো হয়েছে। তদন্তও আমাকে নির্দোষ বলেছে। আমি চাই ঘটনাটি আবার তদন্ত হোক। যারা আমার সম্মান নষ্ট করেছে তাদের বিচার হোক।

তিনি আরও বলেন, আমি চাই যারা মিথ্যা অভিযোগ ছড়িয়েছে, সেই দায় তারা নিক। আমার চাকরি আমাকে ফিরিয়ে দিন। ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে এই ধরনের উদাহরণ আরও বিপজ্জনক হবে।