দেশের কঠিন সময়, ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা ও ব্যাপক নৈরাজ্যের মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী যখন সবচেয়ে সংকটপূর্ণ অবস্থার মুখোমুখি, তখন নেতৃত্বের ভার নিয়ে দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্বের মিশেলে আলো দেখান পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বিপিএম।
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার কৃতি এই সন্তান আজ দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নির্ভরতার প্রতীক হয়ে ওঠায় গর্বে ভরে উঠেছে কিশোরগঞ্জবাসী।
কিশোরগঞ্জ জেলায় জন্ম নেওয়া পুলিশ ইতিহাসে সব সময় গর্বের অধ্যায় ছিল না। জেলায় জন্ম নেওয়া অন্য দুই পুলিশ কর্মকর্তা মিঠামইন উপজেলার ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার সাবেক প্রধান হারুন অর রশীদ (ডিবি হারুন) এবং কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার খড়মপট্টির সন্তান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারকে ঘিরে অতীত সময়ে ছাত্র আন্দোলন দমন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা ও সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং সামাজিক প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে দেখা যায়, এই অভিযোগগুলোর পর কিশোরগঞ্জ জেলায় বহু মানুষ প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং মনে করেন, জাতীয় পর্যায়ে তাদের কর্মকাণ্ড জেলা হিসেবে কিশোরগঞ্জকে বিব্রত করেছে।
জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তখন প্রায়ই শোনা যেত "এক জেলা থেকে এত দক্ষ মানুষ জন্মালেও, বিগত সময়ে তাদের কর্মকাণ্ড আমাদের সুনামকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।" কিন্তু সেই হতাশায় আইজিপি বাহারুল আলম দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতির দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে যায় কিশোরগঞ্জবাসীর। সংকটের মুহূর্তে তার নিষ্ঠা, অভিজ্ঞতা এবং পেশাদারিত্ব দেখে জেলার মানুষের মুখে নতুন করে গর্বের সুর ফিরে আসে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন থেকে শুরু করে দেশে দায়িত্ব পালন সব ক্ষেত্রেই বাহারুল আলম পরিচিত হয়েছেন একজন সৎ, নিষ্ঠাবান, শান্ত-স্বভাব ও নীতিবান পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে।
গুরুদয়াল সরকারি কলেজের সাবেক প্রবীণ শিক্ষক আ. মালেক বলেন, "অনেক দিন পর মনে হলো কিশোরগঞ্জের একজন সন্তান আবার দেশের গৌরবের জায়গায় দাঁড়িয়েছে।"
স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল থেকে শুরু করে তরুণ সমাজ সবার মধ্যে এখন এক অভিন্ন অনুভূতি যেখানে কিছু ঘটনার জন্য আমরা লজ্জিত হয়েছিলাম, বাহারুল আলম সেই জায়গা বদলে দিয়েছেন সম্মান আর গর্বে। পুলিশ বাহিনীর ভেঙে পড়া কাঠামো পুনর্গঠন, মাঠ পর্যায়ে মনোবল ফিরিয়ে আনা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নির্বাচনকে সামনে রেখে বাহিনীকে প্রস্তুত করা এই সব কিছুই তার কাজের দৃশ্যমান সাফল্য।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা মো. ইকরাম হোসেন বলেন, "একসময় কিছু ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের কারণে আমরা যে নেতিবাচক আলোচনায় পড়েছিলাম, বাহারুল আলমের নেতৃত্ব সেই ভাবমূর্তি পাল্টে গেছে। এক জেলার গর্ব কখনো ব্যক্তির পদে নয়; তার সততা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধে। কিশোরগঞ্জবাসী আজ তাই উচ্চারণ করছে যেখানে অপকর্ম আমাদের লজ্জিত করেছিল, সেখানে এক সন্তানের সৎ নেতৃত্ব আমাদের মাথা উঁচু করেছে।"
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন