বাগাতিপাড়ায় অবৈধ মাটি কাটায় নীরব প্রশাসন, ক্ষুব্ধ কৃষক

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫, ১১:৩৮ এএম
বাগাতিপাড়ায় অবৈধ মাটি কাটায় নীরব প্রশাসন, ক্ষুব্ধ কৃষক

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় প্রশাসনের চোখের সামনেই রাতের আঁধারে অবৈধ মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। কোনো অনুমোদন ছাড়াই তিন ফসলি কৃষিজমিতে গভীর পুকুর খনন করে সেই মাটি বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এই অবৈধ কাজে জড়িত থাকায় প্রশাসন কার্যত নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন রাত ১০টার পর ভারী যন্ত্রপাতি (এসকেভেটর) দিয়ে মাটি কাটা শুরু হয়। উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের দেবনগর এলাকার রহিমানপুর মেদ্দাপাড়ায় আজিজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি তার তিন ফসলি জমিতে গভীর পুকুর খনন করছেন। খননের নীতিমালা না মানায় পাশের জমি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, রাতভর মাটি কাটার ফলে সৃষ্ট ধুলাবালিতে রসুন, পেঁয়াজ, মসুরসহ নানা ফসল নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া, মাটি বহনের জন্য ভারী ট্রলি ও ট্রাক চলাচলের কারণে এলাকার কাঁচা-পাকা সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অভিযুক্ত মাটি কাটা সিন্ডিকেটের মূল হোতা দাবিদার, থানা যুবদলের নেতা পরিচয়ধারী বাবু ফকির সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, "ইউএনও ও ওসি স্যার বসে আমাকে মৌখিক অনুমতি দিয়েছে।" তিনি জানান, তিনি এ পর্যন্ত ৪৫টি পুকুর কেটেছেন এবং এই সিন্ডিকেটে এনপিপি নেতা মুনজুর হোসেন, বিএনপি যুবদল নেতা দুলালসহ অনেকেই জড়িত।

জমির মালিক আজিজুল ইসলামের ছেলে হামিম জানান, আমাদের পুকুর দরকার, তাই বিএনপির নেতারাই পুকুর কেটে দিচ্ছে। তারা মাটি বিক্রি করবে এমন চুক্তি হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মৌখিক অনুমতি দেওয়ার দাবিকে 'সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, লোক পাঠানো হয়েছিল, কাউকে পাওয়া যায়নি এবং এরপরও মাটি কাটলে মামলা দেওয়া হবে।

তবে বাগাতিপাড়া মডেল থানার ওসি মনজুরুল আলম জানান, পুকুর খননকারীদের সঙ্গে তার কোনো কথা হয়নি এবং উপজেলা প্রশাসন চাইলে পুলিশ সহায়তা দেওয়া হবে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি অনুমতি না থাকে, তাহলে এত দিন ধরে রাতের পর রাত কীভাবে পুকুর খনন চলছে এবং কেন অভিযানের আগেই শ্রমিকরা সরে যায়?

এলাকাবাসী দ্রুত পুকুর খনন ও অবৈধ মাটি পরিবহন বন্ধ, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা সংস্কার এবং জড়িত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় বাগাতিপাড়ার কৃষি ও পরিবেশ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জেএইচআর