মুন্সীগঞ্জে আস্থা বাড়ছে গ্রাম আদালতে

আরাফাত রায়হান সাকিব, মুন্সীগঞ্জ প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫, ০৮:১১ পিএম
মুন্সীগঞ্জে আস্থা বাড়ছে গ্রাম আদালতে

উচ্চ ও জেলা আদালতগুলোতে মামলার জট যখন ক্রমাগত বাড়ছে, তখন মুন্সীগঞ্জে ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তিতে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে গ্রাম আদালত। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত এই জেলায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এই সময়ে মোট ১ হাজার ৯২৮টি মামলা দায়ের করা হয়, যার মধ্যে ১ হাজার ৮২১টি মামলাই নিষ্পত্তি হয়েছে। নিষ্পত্তির হার দাঁড়িয়েছে ৯৪.৪৫ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার বিভাগের আয়োজনে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব তথ্য জানানো হয়। এতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তিকৃত মামলার মধ্যে ১ হাজার ৪১১টি রায় এরই মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। এর মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীরা মোট ১১ কোটি ৬ লাখ ২০ হাজার ৭০০ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। এই বিচার প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো। মোট আবেদনকারীর মধ্যে ৪৩২ জন নারী এবং বিচার প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৫ শতাংশ নারী প্রতিনিধি যুক্ত ছিলেন। এছাড়া উচ্চ আদালত থেকেও ৩৮৬টি মামলা গ্রাম আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মৌসুমী মাহবুবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বক্তারা জানান, গ্রাম আদালতের এই সাফল্য দ্রুত ও সহজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করছে। ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক বিরোধ এই আদালতে নিষ্পত্তিযোগ্য। গত এক বছরে এই বিপুল পরিমাণ মামলা গ্রাম আদালতে শেষ হওয়ায় জেলা পর্যায়ে মামলার বাড়তি চাপ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার কবির উদ্দীন জানান, জেলার ৬৮টি ইউনিয়নে এই কার্যক্রম চলছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করলেই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ফৌজদারি বিরোধের ক্ষেত্রে ৩০ দিন এবং দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে ৬০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হয়।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজাউল করিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী হুমায়ূন রশীদ। 

এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও এনজিও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএনডিপি-এর সহযোগিতায় স্থানীয় সরকার বিভাগ এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

ইএইচ