রাজবাড়ীর পাংশার যুবক আব্রাহাম খান ওরফে আলিম খানকে (২৭) প্রলোভন দেখিয়ে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে গলা কেটে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় পাংশা মডেল থানার সামনে ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচিতে তিন শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।
বিক্ষোভকারীরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এর আগে পাংশা পুরাতন বাজার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে থানার সামনে এসে শেষ হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৬ ডিসেম্বর সকালে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানার শ্রীনিবাসদী এলাকার একটি পাকা রাস্তার পাশ থেকে মাথাবিহীন এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। আব্রাহাম খান পাংশা পৌর শহরের ওয়াজেদ আলী খানের ছেলে।
এই ঘটনায় নিহতের পিতা আড়াইহাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে গত ১৯ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার মধ্য বাড্ডা এলাকা থেকে রুহুল আমিন (২৬) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। গ্রেপ্তারকৃত রুহুল আমিনের বাড়িও রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায়।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুহুল আমিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, নিহত আব্রাহাম খানের সাথে তাঁর (সম্মানিত আত্মীয় বা বয়োজ্যেষ্ঠ সম্পর্কের খাতিরে নয়, বরং মামলার নথিতে উল্লেখিত সম্পর্কের ব্যক্তি হিসেবে) খালা মরিয়মের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে আব্রাহামকে হত্যা করা হয়।
এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, "নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেছেন। যেহেতু হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি আড়াইহাজার থানা এলাকায় ঘটেছে, তাই সংশ্লিষ্ট থানাই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে।"
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন