উত্তরের সীমান্ত জেলা কুড়িগ্রামে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। হিমেল বাতাস আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে পুরো জনপদ।
বৃহস্পতিবার ভোরে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। টানা চার দিন ধরে তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রির আশেপাশে অবস্থান করায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ ভোর থেকে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল প্রায় ১০০ শতাংশ। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সূর্যের দেখা না মেলায় এবং কনকনে ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তা পাড়ের ৪৬৯টি চরের বাসিন্দারা তীব্র শীতের কবলে পড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলাজুড়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব। কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু ও বয়স্ক রোগীদের ভিড় বাড়ছে। সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ২৯৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, “হিমালয়ের নিকটবর্তী হওয়ায় এখানে শীতের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি। দুর্গম চরাঞ্চলের প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ মানুষ এখন খাদ্য ও বস্ত্র সংকটে ভুগছেন। মানবিক বিপর্যয় এড়াতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে দ্রুত সহায়তা বাড়ানো জরুরি।”
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নয়টি উপজেলার শীতার্ত মানুষের জন্য এখন পর্যন্ত ২২ হাজার কম্বল বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মাসের শেষ দিকে তাপমাত্রা আরও কমে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন