পঞ্চগড়ে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ রুবিনা আক্তার (৩২) নামে এক পরীক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার বিকেলে ডক্টর আবেদা হাফিজ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র থেকে ওই পরীক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে তুলে দেন কেন্দ্র সচিব। গ্রেপ্তারকৃত পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
তিনি পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের দফাদার পাড়া এলাকার আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী। তার সাড়ে তিন বছর বয়সী একটি শিশু সন্তান রয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড় জেলা শহরের ২০টি কেন্দ্রে একযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বিকেল তিনটায় শুরু হয়ে চলে সাড়ে চারটা পর্যন্ত। এই সময়ে ডক্টর আবেদা হাফিজ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন রুবিনা আক্তার। পরীক্ষার শেষ মুহূর্তে রুবিনা আক্তারের সামনের বেঞ্চে বসা এক পরীক্ষার্থী তার আচরণে সন্দেহজনক কিছু লক্ষ্য করে কক্ষ পরিদর্শককে বিষয়টি জানান।
পরে কক্ষ পরিদর্শক তার কান থেকে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করেন। এ সময় তাকে বহিষ্কার করে পুলিশের সহযোগিতায় কেন্দ্র সচিবের কক্ষে নিয়ে যান কক্ষ পরিদর্শক। পরে কেন্দ্র সচিব ওই নারী পরীক্ষার্থীকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে তুলে দেন।
এবার ১৭১টি পদের বিপরীতে ২০টি পরীক্ষা কেন্দ্রে মোট ১০ হাজার ৮১০ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করেন। তবে ৮ হাজার ৭৮১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন পরীক্ষায় এবং অনুপস্থিত ছিলেন, ২ হাজার ২৯ জন। উপস্থিতির হার ৮১.২৩ শতাংশ।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, “কানে ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষা দেওয়ার সময় এক নারী পরীক্ষার্থীকে কক্ষ পরিদর্শক আটক করেন। পরে কেন্দ্র সচিব ও পুলিশ তাকে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে তুলে দেন। সে স্বামীর সহযোগিতায় এ ধরনের ডিভাইস ব্যবহারের চেষ্টা করছিল বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এ ছাড়া কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।”
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন