শরীয়তপুর সদর উপজেলার খিলগাঁও এলাকায় চাঞ্চল্যকর শিশু নিবিড় হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে ২ জনকে ফাঁসির আদেশ ও একজনকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার দুপুর ১টায় শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ হাফিজুর রহমান এই আদেশ দেন।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সিয়াম সরদার ও শাকিল গাজী। অপর আসামি তুহিন গাজীকে তিনটি ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে শিশু আইনে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই বিকেল ৪টায় শরীয়তপুর সদর উপজেলার খিলগাঁও গ্রামের মনির খানের ছেলে এবং শিশুকানন কিন্ডারগার্টেন স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র নিবিড় খানকে (১১) অপহরণ করে আসামিরা। অপহরণের পর মা নিপা আক্তারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণ না দেওয়ায় শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ট্রাকের সাথে বেঁধে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আলী হোসেন কাজীর বাড়ির পেছনে ইটভাটার নিকট বালুচাপা দিয়ে লাশ লুকিয়ে রাখে তারা।
এই ঘটনার পরদিন নিবিড়ের দাদা মমিন আলী খাঁ বাদী হয়ে পালং মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে আসামিদের শনাক্ত করে সিয়াম, তুহিন গাজী ও শাকিল গাজীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ইটভাটার গর্ত থেকে নিবিড়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক আজ সিয়াম সরদার ও শাকিল গাজীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের মৃত্যুদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশ দেন। অন্যদিকে তুহিন গাজীকে শিশু আইনে পর্যায়ক্রমে ৫ বছর, ৬ বছর ও ১০ বছরসহ মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নিহত নিবিড়ের মা নিপা আক্তার বলেন, এই রায়ে আমি খুশি হয়েছি। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে রায় কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান বলেন, এই রায়ে আমরা অত্যন্ত খুশি। আমরা চাই দ্রুত রায় কার্যকর হোক, যাতে সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমে আসে।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তৌহিদ হোসেন বলেন, এই মামলার রায়ে আসামিরা ন্যায়বিচার পাননি। তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন