ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট একযোগে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও আসন বণ্টন ও নীতিগত মতপার্থক্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জোটের ভেতরে টানাপোড়েন চলছিল।
জানা যায়, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগে একাধিক দফা বৈঠক হলেও ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারায় বারবার সময় পিছিয়ে যায়। এরই মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ একাধিক দল জোট থেকে সরে যাওয়ার খবরও গণমাধ্যমে আসে।
সবশেষ গতকাল ১১ দলীয় জোট আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে।
তালিকা অনুযায়ী, এতদিন ঢাকা-১৯ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আফজাল হোসাইনের নাম থাকলেও সর্বশেষ ঘোষণায় তার পরিবর্তে এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুলকে এ আসনে জোটপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
এ ঘোষণার পরপরই সাভার ও আশুলিয়া জুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী কিংবা ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করলেও মাঠপর্যায়ের জামায়াত-শিবিরের সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
অনেক নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাওলানা আফজাল হোসাইন এ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় ছিলেন এবং তার ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। তাদের দাবি, আসন্ন নির্বাচনে তার বিজয়ের সম্ভাবনাও ছিল উল্লেখযোগ্য।
নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এমন বাস্তবতায় হঠাৎ করে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পরিবর্তন করে অন্য দলের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া অযৌক্তিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত। এতে তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে হতাশা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে বলেও তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর পূর্বঘোষিত প্রার্থী মাওলানা আফজাল হোসাইনের প্রতিক্রিয়া জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। প্রার্থী পরিবর্তন নিয়ে চলমান এ বিতর্ক আগামী দিনে ১১ দলীয় জোটের সাংগঠনিক ঐক্য ও নির্বাচনী কৌশলে কী প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন