কক্সবাজারের চকরিয়ায় চলতি শীত মৌসুমে ফুলকপি, বাঁধাকপির বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত সেচ সুবিধা এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শে আগের বছরের তুলনায় কৃষকরা এবার বেশি জমিতে ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি আবাদ করেছেন।
তবে উৎপাদন ভালো হলেও বাজারে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় হাসি নেই কৃষকের মুখে। মাঠভরা সবজি দেখে কৃষকরা প্রথমে আশাবাদী হলেও লোকসানে ফসল বিক্রি করতে হচ্ছে অনেক চাষিকে।
কক্সবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চকরিয়ায় এ বছর রবি মৌসুমে মোট সবজির আবাদ হয়েছে ৩১০০ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে ৩৬০ হেক্টর জমিতে ফুলকপির আবাদ হয়েছে। আর বাঁধাকপির চাষ হয়েছে ৩৫০ হেক্টর জমিতে।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, গত রবি মৌসুমে ২৬৩৬ হেক্টরে এ রবি শস্যের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছিল।
কৃষকরা বলছেন, এ বছর উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে দাম অনেক কম। মাঠ পর্যায়ে এখন প্রতি কেজি ফুলকপি ৫ টাকা ও বাঁধাকপি ৭ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। অথচ উৎপাদন খরচ পড়েছে এর চেয়ে বেশি। ফলে লোকসানের আশঙ্কা করছেন অনেক চাষি।
সবজি চাষি হানিফ মিয়া বলেন, ‘এ বছর ফলন খুব ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে এত কম দাম যে, খরচ তুলতেই কষ্ট হচ্ছে। শ্রমিক, সার, বীজ আর পরিবহন খরচ সব মিলিয়ে আমরা বিপাকে পড়েছি।’
সবজি বিক্রেতা জাকারিয়া জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বেচাকেনা করতে হচ্ছে। কিন্তু বাজারে সবজির দাম কম, ক্রেতাও কম। এতে সবজি নষ্ট হচ্ছে। লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ী ও চাষিদের।
সবজি চাষিরা জানান, এক বিঘা জমিতে ফুলকপির আবাদ করতে খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। সঙ্গে রয়েছে শ্রমিক ও পরিবহন খরচ। এখন এক বিঘা জমির ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায়। এতে ট্রাক ভাড়া ও শ্রমিক খরচ যোগ করলে লোকসান আরও বেড়ে যাচ্ছে।
ফুলকপি চাষি গফুর বলেন, ‘অনেক আশা নিয়ে ফুলকপি ও বাঁধাকপির আবাদ করেছিলাম। ফলনও ভালো হয়েছে। মাঠজুড়ে শুধু কপি দেখা যায়। একেকটি কপির ওজন হয়েছে দেড় থেকে দুই কেজি। এখনও বিক্রি করতে পারিনি। জমিতে অনেক ফুলকপি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘কোনো উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে স্থানীয় বাজারে ৫ থেকে ৬ টাকা পিস বিক্রি করতে হচ্ছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশালে পাঠিয়ে কোনোমতে ট্রাক ভাড়া হচ্ছে। ঘর থেকে শ্রমিক খরচ দিতে হচ্ছে। সার ও কীটনাশকের দোকান থেকে ধার দেনা করে আবাদ করছি। চেয়েছিলাম বিক্রির পর দেনা পরিশোধ করব, কিন্তু সে আশায় ভাটা পড়েছে। অনেক টাকা দেনা, পরিশোধ করতে হলে সমিতি থেকে ঋণ করতে হবে।’
কৃষক আলি হোসেন বলেন, 'বাঁধাকপি কয়েক সপ্তাহ রাখা গেলেও ফুলকপি বিক্রির উপযোগী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি করতে হয়। না হলে ফুল ফুটে গেলে বিক্রির অনুপযোগী হয়ে পড়ে, আমার এক বিঘা জমির ফুলকপি বিক্রি করতে না পারায় নষ্ট হচ্ছে।'
আড়তদারদের দাবি, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একসঙ্গে সবজি উঠছে, ফলে পাইকারি বাজারে দাম কম। পরিবহন খরচ বাড়লেও ক্রেতার সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকায় দাম বাড়ানো যাচ্ছে না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, ফলে দাম কিছুটা কমেছে।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহনাজ ফেরদৌসী বলেন, ‘চাষিরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য বাজার ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সরাসরি বিপণনের দিকে নজর দিতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি।’
ইএইচ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন