ছুটির দিনে বাণিজ্য মেলায় মানুষের ঢল

রফিকুল ইসলাম, পূর্বাচল প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম
ছুটির দিনে বাণিজ্য মেলায় মানুষের ঢল

রাজধানীর উপকণ্ঠ পূর্বাচলে আয়োজিত ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শেষ সময়ের ছুটির দিনে দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে। 

শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে ছিল মানুষের ঢল। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মেলার প্রতিটি করিডর, প্যাভিলিয়ন ও ফুড কোর্টে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না।

পণ্য ও প্যাভিলিয়নের আকর্ষণ মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের সংখ্যাই বেশি। শেষ সময় ঘনিয়ে আসায় বিভিন্ন স্টলে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ ছাড় ও আকর্ষণীয় অফার, যা ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে। দেশীয় পণ্যের পাশাপাশি বিদেশি স্টলগুলোও দর্শনার্থীদের আলাদাভাবে আকর্ষণ করছে। বিশেষ করে দৃষ্টিনন্দন আলোকবাতি, ক্রিস্টাল সামগ্রী ও শো-পিসের জন্য বরাবরের মতো নজর কাড়ছে তুর্কিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের স্টল। এসব স্টলে কয়েক হাজার টাকা থেকে শুরু করে লাখ টাকার বেশি মূল্যের পণ্যও বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশীয় হস্তশিল্প, পোশাক, ফার্নিচার, কসমেটিকস ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যের স্টলগুলোতে ছিল ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।

ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের প্রতিক্রিয়া মেলায় আসা দর্শনার্থী মো. রাশেদ মাহমুদ বলেন, “ছুটির দিন হওয়ায় পরিবার নিয়ে এসেছি। এক জায়গায় এত ধরনের দেশি-বিদেশি পণ্য পাওয়া যায়, এটাই মেলার বড় সুবিধা।” গৃহিণী সালমা আক্তার জানান, রান্নাঘরের জিনিসপত্র ও ঘর সাজানোর সামগ্রী কিনেছেন তিনি। শেষ সময়ে দাম তুলনামূলক কম থাকায় কেনাকাটায় সাশ্রয় হচ্ছে। তরুণ দর্শনার্থী নাজমুল হাসান বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসে মেলার উৎসবমুখর পরিবেশের প্রশংসা করেন।

খাবার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেনাকাটার পাশাপাশি খাবারের স্টলগুলোতেও ছিল দীর্ঘ লাইন। দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের পাশাপাশি ফাস্টফুড ও বিদেশি খাবারের স্টলগুলো দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যার পর ফুড কোর্ট এলাকায় মানুষের উপস্থিতি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

মেলা কর্তৃপক্ষ জানায়, শেষ সময়ের ছুটির দিনে দর্শনার্থীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা তদারকিতে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন। 

উল্লেখ্য, পূর্বাচলে আয়োজিত এই মেলা আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

জেএইচআর