অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান

দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান

রাজশাহীর দুর্গাপুরে ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন ও টপ সয়েল কর্তন করে অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে এক মাসে ১১টি অভিযানে এস্কেভেটর (ভেকু) নিষ্ক্রিয়, ব্যাটারি জব্দ, কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এতে পুকুর খননকারী সিন্ডিকেট মুখথুবড়ে পড়েছে। ভূমি রক্ষায় সাহসী পদক্ষেপে আলোচনায় এসেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) লায়লা নূর তানজু। 

উপজেলায় যোগদানের পর থেকে তিনি পুকুর খনন চক্রের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন। গত ২৫ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত দুই মাসেই ১৭টি অভিযান পরিচালনা করেন তিনি।

সূত্রমতে, গত ২৫ নভেম্বর কিসমত তেকাটিয়ায় ভেকু নিষ্ক্রিয় করা হয়। ১৫ ডিসেম্বর উজানখলসীতে, ১৬ ডিসেম্বর কয়ামাজমপুরে ভেকু নিষ্ক্রিয় এবং ১৭ ডিসেম্বর সুখানদিঘিতে এক মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। 

৩০ ডিসেম্বর সুখানদিঘিতে এক মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং একই এলাকায় অপর আরেকটি অভিযানে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

২ জানুয়ারি বড়ইলে ভেকু নিষ্ক্রিয় করা হয়। ৬ জানুয়ারি গৌরিহারে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। ৮ জানুয়ারি উজানখলসীতে ভেকু নিষ্ক্রিয়, ৯ জানুয়ারি গগনবাড়িয়াতে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং ১০ জানুয়ারি সুখানদিঘিতে ভেকু নিষ্ক্রিয় করা হয়। 

১১ জানুয়ারি উজানখলসীতে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। ১৩ জানুয়ারি মঙ্গলপুরে, ১৪ জানুয়ারি আনুলিয়াতে এবং ১৬ জানুয়ারি আনুলিয়াতে অন্য একটি স্পটে ভেকু নিষ্ক্রিয় করা হয়। ১৯ জানুয়ারি বড়ইলে এবং ২৫ জানুয়ারি আলীয়াবাদে ভেকু নিষ্ক্রিয় করা হয়।

কৃষক মনিরুল ইসলাম জানান, কৃষি ভূমি রক্ষায় প্রশাসনের লাগাতার অভিযানে প্রকাশ্যে পুকুর খনন বন্ধ হয়ে পড়েছে। গোপনে পুকুর খনন চালালেও অভিযান পরিচালনা করে তা বন্ধ করা হচ্ছে। পুকুর খনন সিন্ডিকেটকারীরা কোনোভাবেই সুবিধা করতে পারছে না।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লায়লা নূর তানজু জানান, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০-এর বিভিন্ন ধারায় টপ সয়েল কর্তন করে পুকুর খননের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য ও কৃষি ভূমি রক্ষায় সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ইএইচ