জামায়াত আমিরকে চরমোনাই পীর

বেপর্দা নারীদের সাথে সেলফি তোলা ইসলামী আদর্শ নয়

লালমনিরহাট প্রতিনিধি প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৯, ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
বেপর্দা নারীদের সাথে সেলফি তোলা ইসলামী আদর্শ নয়

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম জামায়াতে ইসলামীর আমিরের নৈতিকতা ও আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিযোগ করে বলেছেন, জামায়াত নেতা ডা. শফিকুর রহমান জনসমক্ষে বেপর্দা নারীদের সাথে ছবি তুলে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার চেষ্টা করছেন, যা প্রকৃত ইসলামের চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক।

বৃহস্পতিবার দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

হাতীবান্ধা উপজেলা ইসলামী আন্দোলন আয়োজিত এই জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেজাউল করীম জামায়াত আমিরের আধুনিক ও উদার সাজার চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেন। 

তিনি বলেন, “আমরা তো বলিনি ছেলেরা সরো, মেয়ে বন্ধুরা এখন তোমরা আসো। অথচ একজন মুরুব্বি মানুষ হয়ে তিনি মেয়েদের পাশে বসে সেলফি তোলেন, বেপর্দা মেয়েদের সাথে ছবি তোলেন। এটা কি কোনো ইসলামী নেতৃত্বের কাজ হতে পারে?”

তিনি আরও যোগ করেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সস্তা জনপ্রিয়তা বা লোকদেখানো উদারতায় বিশ্বাসী নয়। পর্দার বিধান লঙ্ঘন করে নারীদের সাথে অবাধ মেলামেশা বা ছবি তোলা ইসলামী আন্দোলনের আদর্শে নেই এবং এটি সমাজকে ভুল বার্তা দিচ্ছে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে রেজাউল করীম তাঁর দলের জনসেবামূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন। ৫ আগস্টের পরবর্তী অস্থির সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “যখন দেশে অরাজকতা চলছিল, তখন ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা সংখ্যালঘুদের জান, মাল ও ইজ্জত রক্ষার জন্য পাহারাদারের দায়িত্ব পালন করেছে। আমরা মন্দির ও গির্জা পাহারা দিয়েছি যেন কেউ শান্তি নষ্ট করতে না পারে।

তিনি করোনাকালের ভয়াবহ দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, কোভিড-১৯ এর সময় যখন নিজের আত্মীয়রা পর্যন্ত মৃতদেহ ফেলে পালাচ্ছিল, তখন আমাদের কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লাশের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করেছে। মানুষের দুঃসময়ে আমরা খাদেম হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছি, সেলফি তুলতে যাইনি।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হাতীবান্ধার এই জনসভায় দলীয় কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা গেছে। হাতীবান্ধার স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এ সময় পীর সাহেব চরমোনাইয়ের হাত শক্তিশালী করতে এবং ‘হাতপাখা’ মার্কায় ভোট দিয়ে একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি মনস্তাত্ত্বিক লড়াই রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে নিজেদের একটি উদার ও আধুনিক দল হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের কঠোর রক্ষণশীল ও সেবামূলক ভাবমূর্তি ধরে রাখতে চাইছে। 

জামায়াত আমিরের ‘বেপর্দা নারীদের সাথে সেলফি’ তোলার অভিযোগ তুলে রেজাউল করীম মূলত রক্ষণশীল ভোটারদের নিজের দিকে টানার কৌশল নিয়েছেন।

জনসভায় পীর সাহেব চরমোনাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, প্রচলিত দলগুলো বারবার ক্ষমতায় এসে কেবল নিজেদের আখের গুছিয়েছে। এবার সময় এসেছে সৎ ও আল্লাহভীরু নেতৃত্বের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার। 

তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, লোকদেখানো উদারতা নয়, বরং যারা আমৃত্যু ইসলামের আদর্শে অটল থেকে মানুষের সেবা করেছে, তাদেরকেই বেছে নিতে হবে।

নির্বাচনী মাঠের এই আক্রমণাত্মক বক্তব্য প্রমাণ করে যে, এবারের নির্বাচনে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর মধ্যেও একটি কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। জামায়াত আমিরের বিরুদ্ধে তোলা এই ‘সেলফি’ অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই ব্যক্তিগত ও আদর্শিক আক্রমণের কী জবাব আসে।

এএন