খেলার ছলে ঘরের ভেতর থেকে দরজা আটকে দিয়ে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিল চট্টগ্রামের আনোয়ারার দুই শিশুসন্তান। বড়দের অনুপস্থিতিতে অসতর্কতাবশত দরজার ছিটকিনি আটকে ফেলায় দীর্ঘক্ষণ বন্দি থাকতে হয় তাদের। শেষ পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ উদ্ধারকারী দল ঘরের দরজা কেটে অক্ষত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে মা কমা বাবার কোলে ফিরিয়ে দেয়।
শুক্রবার বিকেলে উপজেলার রশত ইউনিয়নের পশ্চিমচাল গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে কমা রশত ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. ইসমাইলের দুই কন্যা সন্তান কমা তিন বছর বয়সী বড় মেয়ে এবং মাত্র দেড় বছর বয়সী ছোট মেয়ে কমা বিকেলে শোবার ঘরে খেলা করছিল। তাদের মা কমা বাবা ওই সময় ঘরের বাইরে দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। খেলার একপর্যায়ে শিশুরা মজার ছলে ঘরের দরজার ভেতর দিকের ছিটকিনি টেনে দেয়। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই বিপদ টের পায় তারা।
যখন বাইরে থেকে মা কমা বাবার ডাক শুনতে পায় কমা তখন তারা ভেতর থেকে দরজা খুলতে না পেরে আতঙ্কে চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করে। ভেতর থেকে সন্তানদের গগনবিদারী কান্নার শব্দ শুনে মা কমা বাবা ও প্রতিবেশীরা দ্রুত দরজার কাছে ছুটে আসেন। তারা বারবার শিশুদের শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং দরজা খোলার কৌশল শেখানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু অবুঝ শিশুদের পক্ষে শক্ত হয়ে আটকে যাওয়া ছিটকিনিটি খোলা সম্ভব ছিল না।
স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘক্ষণ দরজায় ধাক্কা দিয়ে এবং নানাভাবে খোলার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। সময় গড়ানোর সাথে সাথে শিশুদের কান্নার আওয়াজ তীব্র হতে থাকলে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয়রা অবিলম্বে আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেন। খবর পাওয়া মাত্রই একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দেখেন কমা কপাটটি এমনভাবে আটকে আছে যে তা বাইরে থেকে আঘাত করে খুলতে গেলে শিশুদের আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি ছিল।
এরপর উন্নত প্রযুক্তির সরঞ্জাম ব্যবহার করে অত্যন্ত সাবধানে ২০ মিনিটের মধ্যে দরজার একটি অংশ কেটে ফেলা হয়। ফাটল তৈরি করে ভেতরে প্রবেশ করে দুই শিশুকে নিরাপদে বের করে আনেন উদ্ধারকর্মীরা। উদ্ধার হওয়া শিশুদের পিতা মো. ইসমাইল আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান কমা আমার ছোট ছোট দুই মেয়ে ঘরে আটকা পড়ে যাওয়ায় আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। কোনোভাবেই দরজা খুলতে পারছিলাম না। ফায়ার সার্ভিসের লোকজনের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে আজ আমার কন্যারা আমার কোলে।
তবে ওই সময়কার আতঙ্ক কাটাতে পারছে না ওরা কমা ঘুমের মধ্যে বারবার আঁতকে উঠছে। আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার মো. মুজিবুর রহমান এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন কমা খবর পাওয়া মাত্রই আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। দরজাটি ভেতর থেকে লক হয়ে গিয়েছিল। আমরা শিশুদের কোনো ক্ষতি না করে ২০ মিনিটের সফল প্রচেষ্টায় তাদের উদ্ধার করি। যদিও শিশুরা মানসিকভাবে বেশ ভয় পেয়েছিল কমা তবে শারীরিকভাবে তারা পুরোপুরি সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে মা কমা বাবাকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে ঘরে শিশুদের রেখে দরজার লক বা ছিটকিনি এমন উচ্চতায় না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যেখানে শিশুরা সহজেই পৌঁছাতে পারে। এ ছাড়া এ ধরণের জরুরি পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিকটস্থ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে বা জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পশ্চিমচাল গ্রামে শুক্রবার বিকেলের এই ঘটনায় ভুক্তভোগী তিন বছর ও দেড় বছর বয়সী দুই শিশুকে আনোয়ারা ফায়ার সার্ভিস ইউনিট সফলভাবে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এই ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলেও উদ্ধারকর্মীদের দক্ষতায় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন