মাঘের শীতেই দিনাজপুরে আমের আগাম মুকুল

দিনাজপুর প্রতিনিধি প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
মাঘের শীতেই দিনাজপুরে আমের আগাম মুকুল

প্রকৃতিতে এখনো মাঘের তীব্র শীত। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় যখন জনজীবন বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে দিনাজপুরের আমগাছগুলোতে উঁকি দিতে শুরু করেছে সোনালি মুকুল। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে আগাম আসা এ মুকুলের গন্ধে চারপাশ আমোদিত হচ্ছে। 

তবে আগাম মুকুলে যেমন আশার আলো দেখছেন বাগানমালিকেরা, তেমনি ঘন কুয়াশা আর পচন রোগ নিয়ে শঙ্কাও কাটছে না তাদের।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন গ্রাম ও বাগান ঘুরে দেখা গেছে, দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে, শহরের মডার্ন মোড়, মোহনপুর ব্রিজ সংলগ্ন টোলপ্লাজা এলাকা এবং পার্বতীপুর উপজেলার বিভিন্ন বাগানে আগাম মুকুল শোভা পাচ্ছে। গাছে গাছে হলদেটে মুকুলের সমারোহ জানান দিচ্ছে আমের মৌসুম সমাগত।

মোহনপুর মোড় এলাকার আমগাছ মালিক আল আমিন জানান, তার ২০ বছর বয়সী গুটি জাতের একটি গাছে গত কয়েক বছর ধরেই আগাম মুকুল আসছে। তিনি বলেন, আগাম মুকুল দেখে মন ভালো হলেও ভয় একটাই ঘন কুয়াশা। কুয়াশা বেশি হলে পাউডারি মিলডিউ বা পচন রোগে মুকুল নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন রামপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের ইসমাইল ও আব্দুল আজিজ। 

তাদের মতে, প্রায় এক মাস আগে থেকেই অনেক গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে।

বসিরবানিয়া বড় মেড়েয়াপাড়া গ্রামের ‘দিনাজপুর আম বাগান’ এর মালিক আজিম উদ্দিন জানান, তার বাগানে প্রায় তিন হাজার আমগাছ রয়েছে। আগাম মুকুল আসার পর থেকেই তিনি গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা ও তদারকি শুরু করেছেন যাতে কোনো রোগবালাই আক্রমণ করতে না পারে।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. আনিছুজ্জামান বলেন, প্রতি বছরই কিছু গাছে আগাম মুকুল আসে। ঘন কুয়াশার কবলে না পড়লে এসব গাছ থেকে আগেভাগে ফলন পাওয়া সম্ভব। তবে নিয়ম মেনে মাঘের শেষে যেসব মুকুল আসে, সেগুলোই সাধারণত বেশি স্থায়ী হয়। 

কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং কুয়াশার প্রকোপ কমে আসলে এবার জেলায় আমের বাম্পার ফলন হবে।

ইএইচ