টাঙ্গাইলে সব প্রার্থীর টার্গেট ‘আওয়ামী’ ভোটব্যাংক

রাইসুল ইসলাম লিটন, টাঙ্গাইল প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
টাঙ্গাইলে সব প্রার্থীর টার্গেট ‘আওয়ামী’ ভোটব্যাংক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের আটটি সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অনুপস্থিতিতে দলটির তৃণমূলের বিশাল একটি সমর্থক গোষ্ঠী ও ‘নীরব’ ভোটাররা এখন সব প্রার্থীর প্রধান টার্গেটে পরিণত হয়েছেন। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ বিশাল ভোটব্যাংক যে প্রার্থীর দিকে ঝুঁঁকবে, তাঁর বিজয় অনেকটাই নিশ্চিত।

টাঙ্গাইলের প্রতিটি আসনের প্রার্থীরা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উঠোন বৈঠক, পথসভা ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে পরিচিত পরিবারগুলোতে গিয়ে প্রার্থীরা অভয় দিচ্ছেন এবং উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন।

জেলাটিতে আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ এখনো নির্বাচন নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকলেও প্রার্থীদের বিভিন্ন আশ্বাসে অনেকে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ভোটারদের টানতে বিএনপি ও জামায়াত কৌশলী ভূমিকা পালন করছে।

এবারের নির্বাচনে টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে ফকির মাহবুব আনাম (বিএনপি), মুহাম্মদ আব্দুল্লাহেল কাফী (জামায়াতে ইসলামী), মুহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন (জাতীয় পার্টি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আসাদুল ইসলামসহ কয়েকজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে বিএনপির আবদুস সালাম পিন্টু ও জামায়াতের মো. হুমায়ুন কবীর এবং টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে এসএম ওবায়দুল নাসির (বিএনপি) ও লুৎফর রহমান খান আজাদ (স্বতন্ত্র) লড়াই করছেন।

টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে বিএনপির মো. লুৎফর রহমান মতিনের সাথে লড়ছেন স্বতন্ত্র হেভিওয়েট প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। 

টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে দলটির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরহাদ ইকবালকে। 

এ ছাড়া টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার), টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) ও টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনেও বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরা শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।

বিএনপির প্রার্থীরা তাদের প্রচারণায় ‘রাষ্ট্র মেরামতের ২৩ দফা’ ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিকে প্রধান হাতিয়ার করেছেন। যমুনা নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, তাঁত শিল্পের আধুনিকায়ন ও কৃষিঋণ মওকুফের আশ্বাস দিচ্ছেন তারা। 

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা ‘ইনসাফ ও সামাজিক নিরাপত্তা’র ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন ও প্রতিটি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন তারা। 

এ ছাড়া জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যান্য দলগুলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সংহতির স্লোগান দিচ্ছে।

নির্বাচনী এলাকাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের ভোটব্যাংক এখনো ‘নীরব’। তারা প্রার্থীদের অতীত কর্মকাণ্ড ও বর্তমান প্রতিশ্রুতিগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। 

ভোটারদের মতে, যিনি এলাকার শান্তি বজায় রাখবেন এবং হয়রানি বন্ধের নিশ্চয়তা দেবেন, তাকে তারা বেছে নেবেন।

এদিকে টাঙ্গাইল-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল প্রচারণায় নতুনত্ব আনতে একটি ওয়েবসাইট চালু করেছেন। 

তার দাবি, প্রযুক্তির এ যুগে জনগণের সাথে সরাসরি যোগাযোগ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ। সব মিলিয়ে টাঙ্গাইলের আটটি আসনে ৪৭ জন প্রার্থী চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪২৭ জন ভোটারের এ জেলায় শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ভোট কার বাক্সে যায়, তা দেখার জন্য ভোটের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

ইএইচ