অবৈধ দখল করা কয়েক কোটি টাকার সম্পদ ফেলে গ্রেপ্তার এড়াতে এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন লালমনিরহাট পৌরসভার খোচাবাড়ী এলাকার মৃত আব্বাস উদ্দিনের ছেলে আরমান উদ্দিন আহমেদ টুলু (৫৫) নামে এক ব্যক্তি।
তিনি কয়েক কোটি টাকার সম্পদ লালমনিরহাট জেলা শহরে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান নর্থ বেঙ্গল গেস্ট হাউজ জোরপূর্বক দখল করেন। নির্বাচনের পর ওই ঘটনা গত ১৪ ফেব্রুয়ারি আদালতের নির্দেশে অবৈধ দখলের মামলা করা হয়েছে তার নামে। পুলিশ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাকে খুঁজছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জানুয়ারি রাতে আরমান উদ্দিন আহমেদ টুলু দলবল নিয়ে বন্ধ থাকা গেস্ট হাউজটিতে গিয়ে জোরপূর্বক তালা লাগান। পরে ১ ফেব্রুয়ারি রাতে ভাড়াটে লোকজন নিয়ে এসে আগের তালা ভেঙে প্রতিষ্ঠানটি দখলে নেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা মূল্যবান এসি, টেলিভিশন, কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র সরিয়ে নিয়েছেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পরেই প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মুকুট চন্দ্র মোহন্ত আদালতের আশ্রয় নেন। আদালত উপস্থাপিত দলিলপত্র পর্যালোচনা করে অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলা হিসেবে রেকর্ড করার জন্য লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। মামলায় আরমান উদ্দিন আহমেদ টুলুসহ ৮ থেকে ১০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাট শহরের মোগলহাট রেলগেট এলাকায় প্রায় ১৩ শতাংশ জমির ওপর পাঁচতলা ভবনটির মালিক ছিলেন প্রয়াত এবিএম শরীফ উদ্দিন। প্রায় এক বছর আগে তার মৃত্যু হলে প্রতিষ্ঠানের মালিকানা তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের কাছে হস্তান্তরিত হয়। পুত্রসন্তান না থাকায় ভাই হিসেবে আরমান উদ্দিন আহমেদ টুলু ১০ শতাংশ অংশের মালিকানা পান। পরে তিনি প্রভাব খাটিয়ে নিজের অংশের বাইরে পুরো প্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা চালান তিনি। এ লক্ষ্যে তিনি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেও সুবিধা করতে না পারায় টুলু ভাড়াটে লোক দিয়ে জোরপূর্বক প্রতিষ্ঠানটি দখলে নেন।
ম্যানেজার মুকুট চন্দ্র মোহন্ত বলেন, “প্রতিষ্ঠানটি দেখভালের জন্য মূল মালিক আমাকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছেন। আরমান উদ্দিন আহমেদ টুলু মনগড়া তথ্য দিয়ে আদালতে মামলা করায় প্রায় সাত মাস ধরে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ছিল।” তিনি আরও বলেন, “মামলায় সুবিধা করতে পারবেন না বুঝতে পেরে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ভাড়াটে লোক এনে জোরপূর্বক প্রতিষ্ঠানটি দখল নেন। নির্বাচনের পর আদালত সব ধরনের কাগজপত্র যাচাই করে আমাদের অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছেন।”
তার দাবি, মালিকপক্ষ আইনগতভাবে প্রাপ্য অংশ দিতে সমঝোতার প্রস্তাব দিলেও টুলু পুরো প্রতিষ্ঠানের মালিকানা দাবি করে আসছিলেন। “ নির্বাচনের আগে তিনি অবৈধ ক্ষমতা খাটিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়েছেন তিনি।
মামলার পর থেকে আরমান উদ্দিন আহমেদ টুলুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। একাধিকবার কল করে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। এ কারণে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লালমনিরহাট সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল আলম বলেন, “আরমান উদ্দিন আহমেদ টুলুকে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি দখল করা সম্পত্তি রেখে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাকে গ্রেপ্তারে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন