গোয়ালন্দে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মসূচি 

মো. সাজ্জাদ হোসেন, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
গোয়ালন্দে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মসূচি 

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ৬২ জন অভিভাবকদের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১ টায় উজানচর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। 

কর্মসূচিটি আয়োজনে ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, রাজবাড়ী। কর্মসূচিতে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর্তৃপক্ষ, জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. আসিফুর রহমান। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন উজানচর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বাবর আলীসহ অন্যান্য শিক্ষকমণ্ডলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচিতে প্রধান আলোচক নিরাপদ খাদ্য কি ও কেনো প্রয়োজন, খাদ্য দূষক/বিপত্তি কি কি, খাবার নিরাপদ রাখার ৫ টি চাবিকাঠি, নিরাপদ খাদ্যের প্রয়োজনে আমাদের প্রাত্যহিক চর্চা সমূহ নিয়ে ধারণা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং রুটি ছ্যাঁকার সময়ের সতর্কতা হিসেবে রুটি সরাসরি তাপে/চুলায় না দিয়ে তাওয়াতে সময় নিয়ে কমমাত্রায় ছ্যাঁকা, নিরাপদ খাদ্য উপকরণের ব্যবহার নিশ্চিতে কালী যুক্ত কাগজের পেপার ব্যবহার না করা ও টক জাতীয় খাবার অ্যালুমিনিয়ামের/সিলভারের পাতিলে রান্না না করার পরামর্শ প্রদান করেন। 

তিনি আরও বলেন, নষ্ট বা পচে যাওয়া বাদাম , ভূট্টা খেতে নিষেধ করেন কারণ এতে আফলাটক্সিন থাকতে পারে যা প্রাণঘাতী হতে পারে। সেইসাথে তিনি মৌসুমি ফলমূল এবং বিদেশি ফলমূল ও ফরমালিন নিয়ে মানুষের ভুল ধারণাগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। কাঁচা খেজুরের রস পান না করা এবং সস্তা খেজুরের গুড় ক্রয় না করার নির্দেশনা প্রদান করেন। মথ ডালে রং মিশিয়ে মুখ ডাল হিসেবে বিক্রির মাধ্যমে গ্রাহকদের প্রতারণা করা হচ্ছে এবং এই মিশ্রিত টারট্রাজিন রং গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ঝালমুড়ি, ভাজাপোড়া খাবার নেওয়ার সময় দোকানদান কালীযুক্ত, ময়লা কাগজে তা দিয়ে থাকেন, এই কালীগুলো হল কার্বন এবং তা শরীরে ক্যানসার তৈরি করতে পারে। 

তিনি সকলকে খাবার গ্রহণের সময় অবশ্যই সতর্ক ও সচেতন থাকার পরামর্শ দেন। কর্তৃপক্ষের উদ্ভাবনী সেবাসমূহ, যেমন- নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জানতে ও অভিযোগ প্রদানে ১৬১৫৫ হটলাইন নাম্বারে কল দেওয়া, রেস্টুরেন্ট-হোটেলে খাওয়ার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ- কর্তৃক গ্রেডিং প্রাপ্ত খাদ্য স্থাপনায় খাওয়ার বিষয়ে পরামর্শ দেন। কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তৈরিকৃত নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন লিফলেট অভিভাবকদের প্রদান করেন। সকলকে নিরাপদ খাদ্যের বিষয়ে আরো বেশি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। 

উজানচর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বাবর আলী বলেন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানায় এমন সুন্দর একটা কর্মসূচি আয়োজনের জন্য। আশাকরি, আমার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা এর মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক নানা বিষয় জানতে পেরেছে, যা তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে কাজে দেবে এবং আজকের কর্মসূচি থেকে লব্ধ জ্ঞান খাবার গ্রহণের সময় তারা মেনে চলবেন এবং নিজেদের সুস্থতা নিশ্চিতে অগ্রগামী হবেন।

এএন