রাজশাহীতে গোলাম মোস্তফা হত্যাকাণ্ডে আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় মহাসড়কে মানববন্ধন

রাকিবুল হাসান, রাজশাহী প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬, ১১:০১ এএম
রাজশাহীতে গোলাম মোস্তফা হত্যাকাণ্ডে আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় মহাসড়কে মানববন্ধন

রাজশাহীতে গোলাম মোস্তফা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।

বুধবার সন্ধ্যার দিকে নগরের বিনোদপুর বাজার এলাকায় ঢাকা–রাজশাহী মহাসড়কের পাশে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এর আগে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে স্থানীয় এলাকা থেকে মিছিল বের করে সেখানে জড়ো হন তাঁরা। এ সময় হত্যার বিচার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

মানববন্ধনে নিহত গোলাম মোস্তফার স্ত্রী নাদেরা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তাঁর স্বামী ছিলেন নির্দোষ ও পরিশ্রমী মানুষ। দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন। তিন মেয়ের মধ্যে এক মেয়ে আড়াই মাস আগে ক্যানসারে মারা গেছে। এখন পরিবারের উপার্জনের কেউ নেই। তিনি দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

নাদেরা বেগম অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে তাঁর স্বামীকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সেই হুমকির বাস্তবায়ন হিসেবেই নামাজ আদায় করতে যাওয়ার পথে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

নিহতের চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী মিলি আক্তার বলেন, আগের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের দু-তিন দিন আগে প্রতিপক্ষের লোকজন ‘একটি লাশ ফেলবে’ বলে হুমকি দিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে সমাধানের চেষ্টা হলেও তা ব্যর্থ হয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ঘটনার এত দিন পরও কেন হত্যাকারীরা ধরা পড়ছে না।

নিহতের ভাতিজা মনজুর হোসেন বলেন, কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় না আনলে এলাকাবাসী আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে।

প্রতিবেশী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, গোলাম মোস্তফা ছিলেন শান্ত ও সৎ স্বভাবের মানুষ। তিনি কোনো ধরনের বিরোধ বা মারামারিতে জড়িত ছিলেন না। তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত আটটার দিকে নগরের ডাঁশমারী খোঁজাপুর কবরস্থানের প্রাচীরের পাশে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন গোলাম মোস্তফা (৫০)। পরে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় রোববার সকালে নিহতের স্ত্রী নাদেরা বেগম বাদী হয়ে ২৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. উকিল, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুল মোল্লা ও শিহাব ইসলামকে আসামি করে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত আসামিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে নিহতের ভাতিজা চঞ্চলকে কেন্দ্র করে একটি বিরোধের সূত্রপাত হয়। খোঁজাপুর মোড়ে একটি দোকান ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি মামলা করে, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।

এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, এখনো আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তারা পলাতক রয়েছে। গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।

এএন