বাংলাদেশের টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং বিদ্যুৎ খাতে কাঙ্ক্ষিত রূপান্তরের লক্ষ্যে রুফটপ সোলার প্রযুক্তিকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজ ও স্থানীয় কমিউনিটি প্রতিনিধিরা।
রোববার রাজশাহী মহানগরীর পঞ্চবটি এলাকায় আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়। এতে বক্তব্য দেন নারী নেত্রী ফরিদা বেগম ও আবেদা বেগম, পরিবর্তনের পরিচালক রাশেদ রিপন, ক্যাম্পেইন অ্যাসোসিয়েট রনি রায়, সোমা ভৌমিক প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় সমর্থন ও সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। অথচ দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিদ্যুৎ খাতে কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যয়বহুল ও আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
তারা বলেন, রুফটপ সোলার একটি পরিচ্ছন্ন, সহজলভ্য ও তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল সমাধান হলেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এটি এখনও যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। রুফটপ সোলার কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি নয়, এটি সাধারণ মানুষের জন্য জ্বালানি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কার্যকর মাধ্যম।
সমাবেশে জানানো হয়, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও গ্রামীণ বাজারের বিপুল পরিমাণ অব্যবহৃত ছাদ সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা গেলে স্থানীয় পর্যায় থেকেই শক্তিশালী জ্বালানি রূপান্তর শুরু করা সম্ভব। এতে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে এবং আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে।
বক্তারা আরও বলেন, পরিকল্পিতভাবে রুফটপ সোলার সম্প্রসারণ করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ টেকনিশিয়ান ও উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে নারী ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য কমিউনিটিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা একটি ন্যায্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।
কর্মসূচি শেষে স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনের কাছে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি কর্পোরেশন পর্যন্ত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে রুফটপ সোলার সম্প্রসারণে সুনির্দিষ্ট নীতিগত ও আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করা, সব সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ভবনের ছাদে বাধ্যতামূলকভাবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনসহ, সাধারণ মানুষের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, সরকারি ভর্তুকি ও কারিগরি সহায়তা প্রদান, জ্বালানি রূপান্তরে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবিনাশী জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে বাস্তবায়নযোগ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির রোডম্যাপ গ্রহণ।
বক্তারা সতর্ক করে বলেন, স্থানীয় সরকারকে সম্পৃক্ত না করে কেবল কেন্দ্রীয়ভাবে নেওয়া পরিকল্পনা টেকসই হবে না। এখনই রুফটপ সোলারকে জাতীয় অগ্রাধিকার দেওয়া না হলে ভবিষ্যতে দেশ আবারও ব্যয়বহুল ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর জ্বালানি সংকটের মুখে পড়তে পারে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন