সমাজের নানা প্রতিকূলতা, বৈষম্য ও সংগ্রাম পেরিয়ে সাহস, দক্ষতা ও আত্মপ্রত্যয়ের মাধ্যমে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করা নারীদের সম্মান জানাতে রাজশাহী বিভাগে প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে ‘অদম্য নারী’ পুরস্কার কার্যক্রম। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ উদ্যোগ নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে নতুন গতি সঞ্চার করবে এবং সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
এই কর্মসূচির আওতায় বুধবার সকালে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ৪০ জন নারীকে ‘অদম্য নারী’ হিসেবে সম্মাননা প্রদান করা হয়। বিভাগীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী ৪০ জনের মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে ১০ জনকে নির্বাচিত করা হয়। তাঁদের মধ্য থেকে পাঁচজনকে বিভাগীয় সেরা ‘অদম্য নারী’ ঘোষণা করা হয়।
বিভাগীয় সেরা বিজয়ীরা হলেন- শিক্ষা ও চাকুরিতে সাফল্য অর্জনকারী নারী ক্যাটাগরিতে শেরপুর উপজেলার রিজু তামান্না, সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখায় শিবগঞ্জ উপজেলার সুমাইয়া ইসলাম, অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী ক্যাটাগরিতে পাবনা সদর উপজেলার মোছা. লতা খাতুন, সফল জননী নারী ক্যাটাগরিতে মোহনপুর উপজেলার রাশেদা বেগম এবং নির্যাতনের বিভীষিকা কাটিয়ে নতুন জীবন শুরু করা নারী ক্যাটাগরিতে চারঘাট উপজেলার রাজিয়া খাতুন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ বলেন, নারীরা আজ শুধু পরিবারের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, রাষ্ট্র ও সমাজ উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। প্রতিকূলতা অতিক্রম করে যারা সামনে এগিয়ে চলেছেন, তাঁদের স্বীকৃতি দেওয়া মানে পুরো সমাজকে এগিয়ে নেওয়া। অদম্য নারীদের এই সম্মাননা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ৪০ জন নারীর জীবনসংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প ডকুমেন্টেশন ও প্রচার করা যেতে পারে, যা নারী ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নারীর শিক্ষা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
সম্মাননা প্রাপ্ত রিজু তামান্না বলেন, নারীরা সুযোগ পেলে যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম। অপরদিকে সুমাইয়া ইসলাম বলেন, নারীরা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকেও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখার লক্ষ্যেই তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মনির হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহজাহান, জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার ও উপ-পুলিশ কমিশনার মো. রিয়াজুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, অদম্য নারীদের এই সম্মাননা শুধু ব্যক্তিগত অর্জনের স্বীকৃতি নয়; এটি নারীর ক্ষমতায়ন, আত্মমর্যাদা ও নেতৃত্ব বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন