পেকুয়া উপজেলার কাটাফাঁড়ি ব্রিজ থেকে উজানটিয়া করিমদাদ মিয়ার জেটি ঘাট সড়কের সোনালী বাজার সংলগ্ন ৩৪ নম্বর স্লুইসগেটটি ফের ভেঙে গেছে। এতে পশ্চিম ও দক্ষিণ পেকুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভেঙে যাওয়া স্লুইসগেট দিয়ে জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় বিস্তীর্ণ এলাকার লবণমাঠ তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকের মজুদ করা কাঁচা লবণ মিঠা পানির সাথে মিশে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন চাষিরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ীভাবে মেরামতের মাধ্যমে স্লুইসগেটটি সচল রাখা হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতি বছরই ভাঙন ও প্লাবনের ঝুঁকি বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতার কারণে টেকসই নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
সোনালী বাজারের এই স্লুইসগেটটির ওপর কয়েক হাজার একর লবণ মাঠ ও মৎস্য প্রজেক্ট নির্ভরশীল। মাত্র কয়েক মাস আগে কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয়ে এটি মেরামত করা হলেও অল্প দিনের ব্যবধানে সেটি আবার ভেঙে পড়ে। এতে মগনামা ও উজানটিয়া ইউনিয়নের হাজার হাজার লবণ ও মৎস্যচাষী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহাবুব আলম মাহাবুব জানান, স্থানীয় চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে অস্থায়ী মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থায়ী মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা বরাদ্দের জন্য স্টিমেট প্রস্তুত করছেন এবং কয়েক দিনের মধ্যেই টেকসই স্লুইসগেট নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইউনুছ চৌধুরী বলেন, প্রাকৃতিক কারণে স্লুইসগেটটি বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে একাধিকবার মেরামত করা হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতির কারণে স্থায়ী সমাধান মিলছে না। তিনি আপাতত পানি ঠেকাতে জিও ব্যাগ ও মাটি দিয়ে ভাঙন অংশ ভরাট করার কথা জানান।
ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আবদুর রাজ্জাক অভিযোগ করেন, স্থায়ী নির্মাণের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডির একে অপরকে দায়িত্ব ঠেলে দেওয়ার দ্বন্দ্বে সাধারণ মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন।
ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম জানান, দ্রুত মেরামত না করা হলে প্রায় ৫ হাজার একর লবণ চাষ জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শাহ আলমও দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রায় ৯ মাস আগে করা সাময়িক মেরামত কোনো কাজে আসেনি; টেকসই স্লুইসগেট নির্মাণ না হলে প্রতি বছরই একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন