সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরার ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক ‘সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় মন্দির’-এ এক ভয়াবহ চুরির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে মন্দিরের একাধিক কক্ষের তালা ভেঙে প্রতিমার গায়ে থাকা বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার, রুপা এবং দানবাক্সের অর্থ লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। প্রাথমিক হিসাবে মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, চুরি হওয়া সম্পদের বাজারমূল্য প্রায় ১৮ লাখ টাকা। এই ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা মন্দির সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিন জানান, চোরের দলটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে মন্দিরের ভেতর প্রবেশ করে। তারা একে একে কেন্দ্রীয় মন্দিরের কালীমন্দির, অন্নপূর্ণা মন্দির, রাধাগোবিন্দ মন্দির এবং জগন্নাথ মন্দিরের তালা কাটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, দুর্বৃত্তরা অত্যন্ত সাবলীলভাবে মন্দির প্রাঙ্গণে বিচরণ করছে এবং প্রতিমার শরীর থেকে অলংকারগুলো খুলে নিচ্ছে।
মন্দির কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, চোরেরা প্রতিমার বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও রুপার অলংকার নিয়ে চম্পট দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চার ভরি ওজনের দুই জোড়া সোনার বালা, এক ভরি ওজনের দুই জোড়া শাঁখা, আট আনা ওজনের একটি ‘মায়ের জিব’, আট আনা ওজনের একটি চেইন, দশ আনা ওজনের একটি নথ, চার আনা ওজনের দুই জোড়া কানের দুল এবং চার আনা ওজনের দুই জোড়া পেটি।
প্রায় পাঁচ ভরি ওজনের রুপার অলংকার এবং মন্দিরের দানবাক্স ভেঙে প্রায় সাত হাজার টাকা নগদ নিয়ে গেছে তারা। এছাড়া আরও কিছু মূল্যবান সামগ্রী খোয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে।
বারবার মন্দিরে চুরির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। মন্দির সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য ও শিক্ষক দীপাসিন্ধু তরফদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মাত্র দুই দিন আগে শহরের কাটিয়া মন্দিরেও একই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক ধর্মীয় উপাসনালয়ে এই ধরনের হামলা ও লুটতরাজ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা দ্রুত দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং জেলার প্রতিটি মন্দিরে স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানাচ্ছি।’
চুরির খবর ছড়িয়ে পড়লে আজ বুধবার সকালে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের শত শত মানুষ কেন্দ্রীয় মন্দির প্রাঙ্গণে জড়ো হন। তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ ও প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ দেখা গেছে। মন্দিরের কর্মকর্তা অসীম দাশ জানান, সিসিটিভি ফুটেজে চোরদের স্পষ্ট দেখা গেছে। এই ফুটেজ ব্যবহার করে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করার দাবি তুলেছেন তিনি।
চুরির খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। সাতক্ষীরা সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রেজাউল করিম বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি তদন্ত করছি এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান শুরু হয়েছে।’
সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় মন্দিরের এই ঘটনা কেবল একটি সাধারণ চুরি নয়, বরং এটি স্থানীয় ধর্মীয় ঐতিহ্যের ওপর এক বড় আঘাত। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে দুটি মন্দিরে চুরির ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। স্থানীয়রা এখন প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন