কলাপাড়ায় কাগজে-কলমে শতভাগ বিদ্যুতায়ন, বাস্তবে বিদ্যুৎবঞ্চিত তিন গ্রাম

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি প্রকাশিত: মার্চ ২৯, ২০২৬, ০২:৫১ পিএম
কলাপাড়ায় কাগজে-কলমে শতভাগ বিদ্যুতায়ন, বাস্তবে বিদ্যুৎবঞ্চিত তিন গ্রাম

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার তিনটি গ্রামের শতাধিক পরিবার এখনও বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। কাগজ-কলমে ২০০১ সালে শতভাগ বিদ্যুতায়ন দেখানো হলেও বাস্তবতা পুরোপুরি ভিন্ন। দৃশ্যত গত চার বছর যাবৎ উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম মধুখালী, উত্তর চরপাড়া ও ইসলামপুর গ্রামের অধিকাংশ পরিবার বিদ্যুতের আলো থেকে বঞ্চিত রয়েছে। শতভাগ বিদ্যুৎ সম্বলিত উপজেলা ঘোষণার দীর্ঘ বছর পরও এই গ্রামগুলো বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সরেজমিনে জানা যায়, ভূক্তভোগী পরিবারের অনেকেই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিস ও ঠিকাদারসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে লাগাতার ধর্না দিলেও কোনও প্রতিকার পাননি। ফলে গ্রামবাসী এখন হতাশ। তাদের মতে, অনেকেই আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ তা রাখেনি।

অপরদিকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কথা বলে ঠিকাদারী পক্ষের লোকজন অনেকের কাছ থেকে টাকাও হাতিয়ে নিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবুও বিদ্যুতের অভাবে ঘর আলোকিত না হওয়ায় ভূক্তভোগী এসব পরিবারের সন্তানদের আজও লেখাপড়ায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

পশ্চিম মধুখালী গ্রামের টাওয়ার রোডের কালভার্ট এলাকার বাসিন্দা আবু ইউসুফ আকন জানান, তাঁদের বাড়িসহ আশপাশের অন্তত দশটি পরিবার বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছে। তাঁদের মধ্যে একাধিক লোকের কাছ থেকে এক হাজার করে টাকা নিয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি বসানো ঠিকাদাররা। তিনটি খুঁটি বসানো হলেও সংযোগ তো দূরের কথা, তার টানাও হয়নি এখনও। এছাড়া ওই গ্রামের আরও প্রায় ৫০টি পরিবার বিদ্যুতের বাইরে রয়েছে।

আরামগঞ্জ মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সিয়াম জানান, তাঁদের এখনও কেরোসিনের ল্যাম্প ও হ্যারিকেন জ্বালিয়ে পড়তে হয়। এতে রাত হলেই ভোগান্তি হয়। অনেক পরিবারের সোলার রয়েছে, কিন্তু তাতে সংকুলান হয় না।

এসব গ্রামের অসংখ্য মানুষের অভিযোগ, ঠিক কবে নাগাদ বিদ্যুৎ সংযোগ পাবেন তা ধারণা করতে পারছেন না কেউই। তবে শতাধিক পরিবারকে বিদ্যুৎ সংযোগ না দিয়ে কীভাবে ২০২১ সালে শতভাগ বিদ্যুতায়নের উপজেলা হিসেবে প্রত্যয়ন দেয়া হয়েছে, এ প্রশ্ন করছেন ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তারা জানতে চায়, যেখানে দেশের চাহিদার অন্তত ১৫ ভাগ বিদ্যুৎ কলাপাড়ায় উৎপাদন হচ্ছে, সেখানে তাঁরা বিদ্যুত থেকে বঞ্চিত কেন।

এবিষয়ে মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন খান দুলাল বলেন, এই তিন গ্রামের শতাধিক পরিবারকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনসহ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে বহুবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে কোনও সুরাহা হয়নি।

পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কলাপাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম জয় প্রকাশ নন্দী বলেন, এসব পরিবার ছাড়াও আরও পাঁচটি গ্রামের আংশিক কিছু পরিবার বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছেন। এক্ষেত্রে নতুন প্রায় ১৮ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করতে হবে। বিষয়টি সময়সাপেক্ষ হলেও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে বলেও তিনি জানান।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ জানান, এই তিন গ্রামের মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার জন্য উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের সভায় লিখিত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অবহিত করা হয়েছে।

এএন