চুয়াডাঙ্গার মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসন ভারপ্রাপ্তের ভারে স্থবির, সেবা গ্রহীতারা ভোগান্তিতে

আশরাফুল আলম, চুয়াডাঙ্গা প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম
চুয়াডাঙ্গার মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসন ভারপ্রাপ্তের ভারে স্থবির, সেবা গ্রহীতারা ভোগান্তিতে

চুয়াডাঙ্গা জেলায় দীর্ঘ দিন ধরে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসন পরিচালিত হওয়ায় শিক্ষা খাতে চরম প্রশাসনিক স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই খাতে স্থায়ী জনবল নিয়োগ না থাকায় নিয়মিত তদারকি বিঘ্নিত হচ্ছে এবং সেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২৪ সালের নভেম্বরে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমান অবসরে যাওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। বর্তমানে জেলার দুটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে দাফতরিক কাজ চালানো হচ্ছে। নিজ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব সামলে জেলা অফিসের রুটিন কাজ করা তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে অফিসে আসা ব্যক্তিরা প্রায়ই কর্মকর্তাদের দেখা পান না। এতে শিক্ষক ও সেবা গ্রহীতাদের সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জেলার চারটি উপজেলার অবস্থা আরও শোচনীয়। চারটি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদের সবকটিই দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য। আলমডাঙ্গা উপজেলার একজন সহকারী কর্মকর্তাকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে নিজ উপজেলার পাশাপাশি জীবননগর, দামুড়হুদা ও সদর উপজেলার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে একজন কর্মকর্তার পক্ষে চারটি উপজেলার দায়িত্ব পালন কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১৪১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩৯টি মাদ্রাসা ও ২০টি কলেজসহ মোট ২০২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক তদারকি, কমিটি গঠন ও বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর নজরদারি নেই বললেই চলে। অনেক প্রতিষ্ঠানে বছরে একবারও সরকারি পরিদর্শন হয় না বলে জানা গেছে।

দফতর সূত্রে জানা যায়, জীবননগর উপজেলায় শিক্ষা কর্মকর্তা মারা যাওয়ার পর ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে পদটি খালি। এছাড়া সদর উপজেলায় ২০২৫ সালের জানুয়ারি এবং দামুড়হুদায় মার্চ থেকে পদ শূন্য রয়েছে। সম্প্রতি জেলা অফিসের এক হিসাবরক্ষককে পদোন্নতি দিয়ে একই জেলায় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী পদোন্নতির পর অন্য জেলায় পদায়নের কথা থাকলেও স্থানীয় হওয়ায় প্রশাসনিক কাজে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে অনেকে মনে করেন।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের খুলনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক কামরুজ্জামান জানান, পদায়ন প্রক্রিয়াটি কেন্দ্রীয়ভাবে সম্পন্ন হয়। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি। দ্রুত স্থায়ী জনবল নিয়োগ দেওয়া না হলে জেলার শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রশাসনিক চেইন অফ কমান্ড ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেএইচআর