যুবককে কম্বোডিয়ায় পাচারের অভিযোগে এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি প্রকাশিত: এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ০৫:২১ পিএম
যুবককে কম্বোডিয়ায় পাচারের অভিযোগে এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা

বিদেশে কম্পিউটার অপারেটর পদে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভনে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের ৬ নং ভাদুরিয়া ইউনিয়নের এক যুবককে কম্বোডিয়ায় পাঠিয়ে একটি অপরাধী চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী যুবককে সেখানে অমানবিক নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ে ‘ডেথ ক্যাম্পে’ বন্দি রাখা হলেও অবশেষে তিনি জীবন বাঁচিয়ে দেশে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন। বিদেশে কর্মী পাঠানোর নামে সংঘবদ্ধ মানবপাচারের এ ভয়ংকর অভিযোগ উঠেছে গাইবান্ধা জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব রাহাদ ইবনে শহিদ এবং তার বাবা মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. শাফিন মণ্ডলের বাবা নূর ইসলাম বাদী হয়ে দিনাজপুর আদালতে মানবপাচার আইনে একটি মামলা করেছেন। মামলায় রাহাদ ইবনে শহিদ এবং তার বাবা মো. শহিদুল ইসলামসহ মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শাফিনের বাড়ি দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাদুরিয়া বাজার এলাকায়।

মামলার এজাহার ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শাফিনের বাবা নূর ইসলাম গাইবান্ধায় চাকরির সূত্রে স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল লতিফ সরকারের সঙ্গে পরিচিত হন। পরবর্তী সময়ে আবদুল লতিফ সরকার তাদের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে শাফিনকে বিদেশে চাকরির প্রস্তাব দেন এবং রাহাদ ইবনে শহিদ ও শহিদুল ইসলামের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর রাহাদ ও শহিদুলের মাধ্যমে শাফিনকে কম্বোডিয়ায় কম্পিউটার অপারেটর পদে দুই বছরের চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি চুক্তি করা হয়। এ চুক্তির ভিত্তিতে কয়েক দফায় মোট ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন শাফিনের পরিবার। গত বছরের ৩১ অক্টোবর তাকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, দুই বছরের ভিসার কথা থাকলেও তাকে মাত্র তিন মাসের ভিসা দেওয়া হয়, যার মেয়াদ ছিল ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত।

এ বিষয়ে দিনাজপুর পিবিআইর পুলিশ সুপার মাহফুজ্জামান আশরাফ জানান, মানবপাচারের এ ভয়ংকর ঘটনার তদন্ত চলছে। ভুক্তভোগীর কাছ থেকে তার বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার বর্ণনা শোনা হয়েছে। পাচারকারী চক্রকে আইনের আওতায় আনতে পিবিআই সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণ সংগ্রহ করছে। দ্রুতই এই চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

এএন