দিরাইয়ে অতিবৃষ্টির হানা, জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে ৭০ শতাংশ বোরো ফসল

সৈদুর রহমান তালুকদার, দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম
দিরাইয়ে অতিবৃষ্টির হানা, জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে ৭০ শতাংশ বোরো ফসল

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় টানা অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে ছোট-বড় সব হাওরের নিম্নাঞ্চল। একমাত্র বোরো ফসল চোখের সামনে তলিয়ে যাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হাওরপাড়ের হাজার হাজার মানুষ। উপজেলার বরাম, চাপতি, টাংনি, কাটিয়াকুটা ও পাকনার একাংশসহ অধিকাংশ হাওরে এখন থৈ থৈ পানি।

লাগাতার ভারী বর্ষণে জমির পাকা ধান নুয়ে পড়ায় কৃষকরা তা কাটার সুযোগ পাননি। অন্যদিকে, শ্রমিক সংকট ও জমিতে অতিরিক্ত কাদার কারণে অনেক এলাকায় সময়মতো ধান কাটা সম্ভব হয়নি। পানির গভীরতা বেড়ে যাওয়ায় অনেক স্থানে হারভেস্টার মেশিনও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। যারা কষ্ট করে ধান কেটেছেন, তারা বৃষ্টির কারণে ধান শুকাতে পারছেন না। অনেক জায়গায় খলায় (ধান শুকানোর চাতাল) পানি উঠে ধান ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

চাষাবাদের শুরুতে অনেক কৃষককেই উচ্চ সুদে মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিতে হয়েছে। ঋণের টাকা শোধ করা, পরিবারের ভরণপোষণ ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ-সবই নির্ভর করে এই একটি ফসলের ওপর। 

রওয়া হাওর এলাকার কৃষক মুসাহিদ মিয়া বলেন, এই ধানই আমাদের সব। এখন ধানও নেই, হাতে টাকাও নেই। সংসার কীভাবে চলবে তা নিয়ে কূলকিনারা পাচ্ছি না।

হাওরে ধান কাটার পরিমাণ নিয়ে কৃষি অফিস ও কৃষকদের তথ্যের মধ্যে বড় ব্যবধান লক্ষ্য করা গেছে। উপজেলা কৃষি অফিসের দাবি, ইতোমধ্যে ৫২ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। তবে সরেজমিনে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রকৃত ধান কাটার পরিমাণ ৩০ শতাংশের বেশি নয়। কৃষকদের মতে, যেটুকু ধান কাটা হয়েছে, তারও একটি বড় অংশ বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার মনোরঞ্জন অধিকারী জানান, অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় এ পর্যন্ত প্রায় ১১০০ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একমাত্র ফসল তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

জেএইচআর