সরিষাবাড়ীতে ইট ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় কৃষকের স্বপ্ন পুড়ে ছাই

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি প্রকাশিত: মে ১০, ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
সরিষাবাড়ীতে ইট ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় কৃষকের স্বপ্ন পুড়ে ছাই

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় কৃষকের জমির ধান পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় শতাধিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কৃষক তাদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পোগলদীঘা ইউনিয়নের চকপাড়া পূর্বপাড়া এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চকপাড়া ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের কৃষিজমির পাশে গড়ে উঠা ইটভাটাগুলোর বিষাক্ত ধোঁয়ায় ধানের শীষ পুড়ে গেছে। অনেক জমিতে ধান পরিপক্ব হওয়ার আগেই শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু বোরো ধানই নয়, শাক-সবজি, ইউক্যালিপটাস গাছ, বাঁশঝাড়সহ বিভিন্ন বনজ ও ফলদ বৃক্ষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কৃষিজমির পাশে গড়ে উঠা এসব ইটভাটা চলতি মৌসুমের আগুন বন্ধ করা হলে ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় এই ইউনিয়নের শতাধিক কৃষকের স্বপ্ন পুড়ে যায়। প্রশাসনের কাছে হস্তক্ষেপ কামনা করছে তাদের ক্ষতিপূরণের জন্য।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে আব্দুল আজিজ, আব্দুস সাত্তার, মুজিবর রহমান, আজীরন বেওয়া, চায়না বেগম, রওশনারা, মকবুল হোসেন ভোলা, আবুল হোসেন, আরিফুল ইসলাম, হেলাল মিয়া ও মোকছেদ আলীসহ অনেকেই জানান, চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের আশায় তারা ব্যাপক খরচ করে চাষাবাদ করেছিলেন। কিন্তু ইটভাটার ধোঁয়া ও তাপে সেই স্বপ্ন ভেঙে মাথায় হাত পড়েছে।

কৃষক মোকছেদ আলী বলেন, “এক একর জমিতে ধান আবাদ করেছি। কিন্তু ইটভাটার ধোঁয়া ও গরম বাতাসে ধান শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”

অপর কৃষক মকবুল হোসেন ভোলা বলেন, “অনেক কষ্ট করে বোরো ধান চাষ করেছি। মাঠে গিয়ে দেখি ধানের শীষ শুকিয়ে গেছে। এ ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া আমাদের পক্ষে খুবই কঠিন।”

উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক ও স্থানীয় কৃষিবিদ আব্দুল মজিদ বলেন, কৃষিজমির আশপাশে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনার কারণে প্রতিবছরই ফসল ও পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অনুপ সিংহ বলেন, স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ইটভাটার প্রভাবের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এএন