রাজশাহী মহানগরীর দামকুড়া থানা এলাকায় অটোরিকশা চালক মামুনুর রশিদ হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। মূলত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার এবং ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা, চারটি ব্যাটারি ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির তাঁর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, নিহত মামুনুর রশিদ গত ২ মে বিকেলে ভাড়ায় চালানোর উদ্দেশ্যে অটোরিকশা নিয়ে গ্যারেজ থেকে বের হন। রাতে তিনি বাড়ি ফিরে না আসায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন সকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে দামকুড়া থানা পুলিশ জোতরাবোন উত্তরপাড়া এলাকার রাস্তার পাশ থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে। এই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাবুল বাদী হয়ে দামকুড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, চক্রটি অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে কোর্ট স্টেশন এলাকা থেকে কাশিয়াডাঙ্গা বাজারে যাওয়ার কথা বলে মামুনুর রশিদের গাড়িটি ভাড়া নেয়। পথিমধ্যে কাশিয়াডাঙ্গা মোড়ের একটি চায়ের দোকানে কৌশলে চায়ের সাথে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে তাঁকে খাওয়ানো হয়। পরে দামকুড়া থানার জোতরাবোন এলাকায় পৌঁছালে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এই অবস্থায় তাঁকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আরএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় ডিবির একটি বিশেষ দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) শাহ্ আলী মিয়া ও তাঁর দল গত ১৫ মে প্রথমে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি উদ্ধার করেন।
এ সময় গ্রেপ্তার করা হয় হড়গ্রাম পূর্বপাড়ার তানভীর রানা প্রান্ত, লক্ষীপুর ভাটাপাড়ার শামীম, আলীগঞ্জ পূর্ব মোল্লাপাড়ার রাব্বি এবং ভাটাপাড়ার নূর আলমকে।
পরবর্তীতে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৯ ও ২০ মে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে মামলার মূল পরিকল্পনাকারী মোল্লাপাড়ার ওমর ফারুক বাবুসহ আরও ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া অন্য ৩ জন হলেন- সুতাহাটি এলাকার সেলিম, মাসকাটাদিঘি এলাকার সুজন এবং খরিবোনা এলাকার রাহেনুল হক।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা, চারটি ব্যাটারি এবং ব্যাটারি খোলার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত এই ৮ আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন