চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। একপর্যায়ে পুলিশ ও উত্তেজিত জনতার মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় গুলিতে একজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটার বিসমিল্লাহ ম্যানশন এলাকায় শত শত স্থানীয় বাসিন্দা এই বিক্ষোভে অংশ নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করার পরও রাত নয়টা পর্যন্ত অভিযুক্তকে ঘটনাস্থল থেকে থানায় নিয়ে যেতে পারেনি। পুলিশ ও স্থানীয়রা মুখোমুখি অবস্থানে অনড় রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেলে ওই ভবনের সিঁড়িঘরে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান প্রতিবেশীরা। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযুক্তকে আটক করতে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বাকলিয়া থানা পুলিশ।
অভিযুক্তকে ভবন থেকে বের করে আনার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের গাড়ি ঘেরাও করে ফেলে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ সদস্যরা কিছুটা পিছু হটে অবস্থান নেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে এবং আসামি সোপর্দের দাবি জানায়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও রাত ৮টার দিকে জনতা ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার হোসেইন মোহাম্মদ কবির ভুঁইয়া জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন