জাতীয় সংসদের সাবেক দুই সংসদ সদস্য একই দিনে মারা গেছেন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এবং মৌলভীবাজার-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল মতিন।
সোমবার বিকেল ৪টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তোফায়েল আহমেদ।
অপরদিকে, একই দিন দুপুর ১২টায় ঢাকার মিরপুরের বাসভবনে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আব্দুল মতিন। তাঁদের মধ্যে তোফায়েল আহমেদ ছিলেন ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। আর কুলাউড়ার সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মতিন ছিলেন একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা।
মৃত্যুকালে তোফায়েল আহমেদের বয়স হয়েছিল ৮২ বছর এবং আব্দুল মতিনের বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। তাঁরা দুজনেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। একজন জাতীয় নেতা হিসেবে এবং অন্যজন তৃণমূলের নেতা হিসেবে দল ও দেশের জন্য কাজ করে গেছেন।
জনপ্রতিনিধি হিসেবে দুজনেই দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। স্বাধীন বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ মোট ৯ বার সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর স্বাধীন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তিনি ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
অন্যদিকে, আব্দুল মতিন দীর্ঘদিন স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কুলাউড়ার জয়চন্ডী ইউনিয়ন পরিষদের ৫ বার এবং কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের ২ বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থীর সমর্থনে তিনি নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন।
তোফায়েল আহমেদ ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আর আব্দুল মতিন ১৯৪৫ সালের ১৭ মার্চ মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ার জয়চন্ডী ইউনিয়নের কামারকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
প্রবীণ এই দুই রাজনীতিকের মৃত্যুতে তাঁদের দীর্ঘদিনের সহকর্মী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও নিজ নিজ এলাকার মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন