অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রি, ফতুল্লার সুন্দরবন রেস্তোরাঁর মালিক গ্রেপ্তার

জুবেল হাসান রানেল, নারায়ণগঞ্জ প্রকাশিত: জুন ২, ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রি, ফতুল্লার সুন্দরবন রেস্তোরাঁর মালিক গ্রেপ্তার

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি, মজুত ও বিক্রির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার তল্লা এলাকার ‘সুন্দরবন রেস্তোরাঁ’র মালিক জোবায়ের হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিরাপদ খাদ্য আইনে দায়ের হওয়া মামলায় আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানামূলে মঙ্গলবার সকালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত জোবায়ের হোসেন বর্তমানে ফতুল্লা মডেল থানা হেফাজতে রয়েছেন।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল (২০২৬) দুপুরে সিনিয়ার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এম সাইফুল ইসলামের নির্দেশে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জেলা কার্যালয়ের একটি দল ফতুল্লার তল্লা হোসেন সরদার রোডের নতুন কোর্ট এলাকায় অবস্থিত রেস্তোরাঁটিতে সরেজমিনে অভিযান চালায়। ওই দলে নিরাপদ খাদ্য অফিসার সুরাইয়া সাইদুন নাহার ও সদর উপজেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো. শাহজাহান হালদার উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে দেখা যায়, রান্নাঘরের সামনে ড্রেনের পাশে খোলা ডাস্টবিনের সঙ্গে মুরগির মাংস রাখা হয়েছে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে ও খোলা সিলিংয়ের নিচে কীটপতঙ্গ রোধের ব্যবস্থা ছাড়াই সেখানে রান্না চলছিল। এছাড়া খাবার খোলা অবস্থায় ফ্রিজে সংরক্ষণ, কাঁচা ও রান্না করা খাবার একত্রে রাখা, ময়লা কাপড়ে খাবার ঢেকে রাখা, নন-ফুডগ্রেড প্লাস্টিকের পাত্র ব্যবহার এবং নোংরা পানিতে তৈজসপত্র ধোয়ার মতো মারাত্মক সব অনিয়ম পাওয়া যায়।

অভিযানকালে রেস্তোরাঁ থেকে বাসি গরু ও মুরগির মাংস এবং নিষিদ্ধ কেওড়া জল জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে কোল্ড চেইন মেনে মাংসের দুটি নমুনা পরীক্ষার জন্য প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হলে ল্যাব টেস্টে ভয়াবহ তথ্য উঠে আসে। পরীক্ষার প্রতিবেদনে দেখা যায়, রান্না করা গরুর মাংসের নমুনায় অণুজীবের পরিমাণ ছিল ২,৮৪০,০০০- যেখানে নিরাপদ খাদ্য প্রবিধানমালা ২০২১ অনুযায়ী সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রা মাত্র ১০,০০০।

এই ঘটনায় নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ এর ২৩, ৩০ ও ৩৩ ধারা লঙ্ঘিত হওয়ায় গত ২৩ মে নিরাপদ খাদ্য অফিসার সুরাইয়া সাইদুন নাহার বাদী হয়ে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রেস্তোরাঁ মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগনামা দাখিল করেন।

অভিযোগ আমলে নিয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এম সাইফুল ইসলাম আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এদিকে প্রশাসনের এই অভিযানে এলাকাবাসী গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং জনস্বার্থে এমন তৎপরতা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।

জেএইচআর