ঘিওরে স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা

মো. সাইফুল ইসলাম, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
ঘিওরে স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় স্বামীকে আটকে রেখে দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে ঘিওর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এর আগে গত ৬ জুন রাতে এ ঘটনা ঘটে এবং পরদিন ৭ জুন ঘিওর থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী নারী। তবে বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় আগে প্রকাশ করা হয়নি।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৬ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও তার স্বামী দৌলতপুর থানার চন্দ্রখোলা গ্রামে ফুফার বাড়ি থেকে পাবনার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে ঘিওর উপজেলার নিলুয়া মোড়ে পৌঁছালে সাগর (২৮) নামে এক যুবক ও তার সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন তাদের পথরোধ করে।

অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা দম্পতিকে জোরপূর্বক ঘিওর উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের ছোট নিলুয়া এলাকার একটি পাটক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে তারা গৃহবধূর স্বামীকে বেঁধে আটকে রাখে। এরপর প্রধান অভিযুক্ত সাগর গৃহবধূকে পাটক্ষেতের ভেতরে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় তার সহযোগীরা ঘটনাস্থলে পাহারা দেয়।

একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী ও তার স্বামীকে একটি ফাঁকা ভিটায় নিয়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়।

স্থানীয় রূপচান নামে এক ব্যক্তি ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের ঘিওর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় এবং স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করে অভিযোগ দায়েরে কিছুটা বিলম্ব হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগী নারী।

ঘিওর থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, “ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। তাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

এএন