ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে একটি ক্লুলেস (রহস্যজনক) হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, নিহত তৌহিদুল ইসলাম গত ১ জুন বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরিবারের দাবি, ওই দিন তিনি কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে মাদক সেবন করেছিলেন। নিখোঁজের দুই দিন পর ৩ জুন উপজেলার শেখর ইউনিয়নের ভাটপাড়া চরপাড়া গ্রামের একটি পাটখেত থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এই ঘটনায় নিহতের বোন শামসুন্নাহার বাদী হয়ে ৫ জুন বোয়ালমারী থানায় অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ সন্দেহভাজন ৬ জনকে আটক করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- ভাটপাড়া গ্রামের বসির মিনা (২২), আমিন মীর (৩০), নিশাত মিয়া (২১), আকবর মিয়া (২৯), মানোয়ার শেখ (২৮) এবং আলফাডাঙ্গা উপজেলার জয়দেবপুর গ্রামের সুমন খন্দকার (২৪)।
আজ দুপুরে পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, মধুখালী সার্কেলের এএসপি আজম খান এবং বোয়ালমারী থানার ওসিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় নিহতের বোন শামসুন্নাহার তাঁর ভাইয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, মামলার পর আটককৃত ৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের পর হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হবে।
তিনি আরও, মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধীরা যেন কোনোভাবেই পার না পায় সেদিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদকের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে এসেছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এই অভিযান কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন