মধ্যনগরে তীব্র লোডশেডিং, অতিষ্ঠ ২০ হাজার গ্রাহক

অমৃত জ্যোতি, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২৬, ০২:৪০ পিএম
মধ্যনগরে তীব্র লোডশেডিং, অতিষ্ঠ ২০ হাজার গ্রাহক

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার চারটি ইউনিয়নেই পল্লী বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে প্রায় ২০ হাজার গ্রাহক অতিষ্ঠ জনজীবন পার করছেন।

মধ্যনগর উপজেলায় বৃষ্টি অথবা ঠান্ডা আবহাওয়ার দিনে বিদ্যুৎ সচল থাকলেও রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে হঠাৎ বিদ্যুৎ এলেও ৪, ৫, ৭ এমনকি ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। ফলে তীব্র গরমে দিনে ও রাতে বৈদ্যুতিক পাখা ব্যবহার করতে পারছেন না গ্রাহকেরা। নির্ঘুম রাত পার করছেন তারা। মধ্যনগর এলাকার শিশু, কিশোর, আবাল-বৃদ্ধ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সব বয়সী মানুষ এ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এতে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম অস্বস্তি। এছাড়া ব্যাহত হচ্ছে সরকারি ও বেসরকারি অফিসের কার্যক্রম। বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও লোকসান গুনছেন। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে মধ্যনগর বিপি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের একাদশ শ্রেণির পরীক্ষার্থী পরাগ সরকারের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, রাতে লেখাপড়ার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে আর পড়তে পারেন না। সামনে বর্ষ-পরিবর্তন পরীক্ষা। এতে তিনি মানসিকভাবে অনেকটাই বিপর্যস্ত। গত রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় তিনি পড়তেও পারেননি, ঘুমাতেও পারেননি।

ভুক্তভোগী সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা বিধান তালুকদার বলেন, মধ্যনগরের বিদ্যুৎ বিভ্রাট খুবই অস্বস্তিকর ও অসহনীয়। বাংলাদেশের অন্য কোথাও এত বিভ্রাট হয় না। চার বছর পর ফুটবল বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ চলছে, যা আমরা মধ্যনগরবাসী ঠিকমতো উপভোগ করতে পারছি না। তাছাড়া শিশুদের নিয়ে দুর্বিষহ জীবন অতিবাহিত করছি।

পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের মধ্যনগর অভিযোগ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা লাইনম্যান গ্রেড-১ মো. মতিউর রহমান জানান, মধ্যনগর অফিসে ১২ হাজার এবং মহিষখলা অফিসের আওতায় ৮ হাজার, মোট ২০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। এছাড়া ধর্মপাশায় আরও ২৫ হাজার গ্রাহক রয়েছে। সব মিলিয়ে ৪৫ হাজার গ্রাহকের জন্য প্রতিদিন সাড়ে ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু এর বিপরীতে প্রতিদিন সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র সোয়া ৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় নিয়মিত লোডশেডিংয়ের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।

এএন