গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার উত্তর হরিপুর মধ্যপাড়া গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে চাচা কফিল উদ্দিন মাস্টার (৬৫) কে পিটিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি ও নিহতের ভাতিজা ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল (৪৮) কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। রোববার রাতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকা থেকে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন র্যাব-১৩ এর মিডিয়া বিভাগের সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী। গ্রেপ্তার আব্দুল জলিল গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের উত্তর হরিপুর মধ্যপাড়া গ্রামের মো. ছামছুল হকের ছেলে এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য।
মামলার এজাহার ও তদন্তের বরাত দিয়ে র্যাব জানায়, নিহত কফিল উদ্দিনের সাথে পৈতৃক ৬৬ শতক জমি নিয়ে শরিকদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। পরবর্তীতে কফিল উদ্দিন ওই বিরোধপূর্ণ জমিটি স্থানীয় এক কৃষককে বর্গা চাষের জন্য দেন।
জমির ধান কাটতে গেলে অভিযুক্তরা ওই কৃষককে বাধা দেন। বাধার কারণ জানতে চাইলে তাঁকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে কফিল উদ্দিন ও তাঁর সহধর্মিণী জুলেখা বেগম ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষককে উদ্ধার করতে গেলে অভিযুক্তরা তাঁদের ওপরও চড়াও হয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে ঘটনাস্থলেই বৃদ্ধ কফিল উদ্দিনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়।
এই নৃশংস ঘটনার পর নিহত কফিল উদ্দিনের সহধর্মিণী বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর গ্রেপ্তার এড়াতে আব্দুল জলিল গা ঢাকা দেন। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিপিসি-৩, র্যাব-১৩ গাইবান্ধা ক্যাম্প ও র্যাব-১ গাজীপুর ক্যাম্পের সদস্যরা গাজীপুরের কালিয়াকৈরের পূর্ব মৌচাক বাজার এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তার আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন