নিজ হাতে লাগানো ফুলগুলো আজও ফুটে আছে। রঙিন সেই ফুলে ভরে আছে বাড়ির ছোট্ট বাগান। শুধু নেই তাদের যত্ন নেওয়া মানুষটি। মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার স্কুলছাত্রী মারিয়া মাহি এখন শুধুই স্মৃতি। নাতনির লাগানো ফুলের বাগানের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকেন দাদি রুবিয়া বেগম। প্রতিটি ফুল যেন তাকে বারবার মনে করিয়ে দেয়, আর কখনো ফিরে আসবে না মাহি।
বাড়ির ভেতরে আরেকটি দৃশ্য আরও ভারী করে তোলে পরিবেশ। এখনো থামেনি মায়ের কান্না। একমাত্র মেয়েকে হারানোর শোক যেন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি। মেয়ের ব্যবহৃত বই-খাতা, পোশাক আর স্মৃতিগুলো আঁকড়ে ধরে বারবার ভেঙে পড়ছেন মা কামরুন্নাহার। স্বজনদের সান্ত্বনাও যেন তার বুকের হাহাকার কমাতে পারছে না। একটাই প্রশ্ন তার, আমার মেয়ের সঙ্গে এমন নিষ্ঠুরতা কেন হলো?
এদিকে, মাহিয়ার মৃত্যুর দশ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো উন্মোচন হয়নি মৃত্যুর রহস্য। নিখোঁজের ছয় দিন পর সিংগাইর উপজেলার সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের একটি নির্জন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় অষ্টম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর দ্বিখণ্ডিত মরদেহ। মরদেহের পাশেই পড়ে ছিল তার স্কুলব্যাগ ও জুতা। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
জানা গেছে, দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ তুলে বিদ্যালয় থেকে মাহিকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দেওয়া হয়েছিল। এরপর বিদ্যালয় থেকে সে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। সেখান থেকেই নিখোঁজ হয় সে। কিন্তু কীভাবে তার মৃত্যু হলো, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। ঘটনার পর বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তবে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, নাকি অন্য কোনো ঘটনার পরিণতি।
মাহিয়ার দাদা আব্দুস সাত্তার দেওয়ান বলেন, আমার নাতনি ছয়দিন নিখোঁজ ছিল। মরদেহ উদ্ধার হয়েছে তাও দশদিন পার হলো। কিন্তু তারপরও আমরা জানতে পারলাম না ওর সাথে কী হয়েছিল। প্রায় প্রতিদিনই পুলিশ আসছে। কিন্তু তারা তো রহস্য উন্মোচন করতে পারছে না।
মাহিয়ার মামা মারুফ হাসান বলেন, আমার ভাগ্নির আসল খুনি কারা আমরা জানতে চাই। কারা কীভাবে ওই নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে হত্যা করল? যারা প্রকৃত দোষী, তাদের আমরা ফাঁসি চাই।
মাহিয়ার মায়ের দায়ের করা মামলায় এ পর্যন্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম, আইসিটি শিক্ষক ইয়াকুব মোল্লা, কথিত প্রেমিক আলিফ ও তার মা-সহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুম বলেন, তদন্তে অগ্রগতি রয়েছে। বিভিন্ন আলামত ও তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তসহ ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন