মাগুরা সদর উপজেলার একটি মহিলা মাদ্রাসা থেকে নিখোঁজ হওয়া ১২ বছরের এক শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি)। নিখোঁজের দুই দিন পর বুধবার সকালে মাগুরা পুলিশ লাইন্স এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার শলুয়া গ্রামের মারকাযুস সুন্নাহ আল ইসলামিয়া মহিলা মাদ্রাসার হেফজ বিভাগে পড়ত নূর তাজ জাহান রুমি। গত ২৯ জুন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সে মাদ্রাসা থেকে কাউকে কিছু না জানিয়ে বের হয়ে যায়। এরপর সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও তার সন্ধান না পেয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ মাগুরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।
উদ্ধার হওয়া রুমির বাড়ি মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের ছোট কলমধারী গ্রামে। তার বাবা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম সৌদি আরব প্রবাসী এবং মা ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৯ জুন মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে রুমি নিজেকে এতিম পরিচয় দিয়ে আশ্রয়ের খোঁজ করছিল। একপর্যায়ে পুলিশ লাইন্স এলাকার বাসিন্দা সেলিনা বেগমের সাথে তার পরিচয় হলে রুমি দাবি করে, তার বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। তার কথা শুনে মানবিক কারণে সেলিনা বেগম তাকে নিজের বাসায় আশ্রয় দেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটির নিখোঁজের খবর ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে আশ্রয়দাতা পরিবারটি সন্দিহান হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে তারা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করে।
আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং স্বজনদের উপস্থিতিতে ওই বাসা থেকে রুমিকে উদ্ধার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে তার বড় বোন জিনাত জাহান জেমির জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুমি জানায়, হেফজ বিভাগে পড়ার প্রতি তার আগ্রহ ছিল না। কিন্তু পরিবার ও মাদ্রাসার পক্ষ থেকে চাপ থাকায় সে অভিমান করে পালিয়ে যায়।
মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ফসিউর রহমান বলেন, শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার পরপরই আমরা পরিবারকে জানাই এবং থানায় জিডি করি। জেলা পুলিশের দ্রুত ও আন্তরিক তৎপরতায় তাকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পাওয়া গেছে, এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন (পিপিএম-সেবা) বলেন, একটি শিশু নিখোঁজের খবর পাওয়ার সাথে সাথেই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল প্রযুক্তিগত সহায়তায় দ্রুত অনুসন্ধান চালিয়ে শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেছে। শিশু ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাগুরা জেলা পুলিশ সবসময় আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, কোনো শিশু বা নারী নিখোঁজ হলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো উচিত। একই সাথে গুজব বা বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে সঠিক তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
নিখোঁজ শিশুকে সুস্থ ও নিরাপদে উদ্ধার করায় তার পরিবার, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন