বরিশাল নগরীতে অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারের অণ্ডকোষ চেপে ধরে জোর করে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজ শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পেলে তা ভাইরাল হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আশিক সাঈদ।
সম্প্রতি নগরীর সদর রোডে অগ্রণী হাউজিং অফিসে এই ঘটনাটি ঘটে। এদিকে দেশজুড়ে আলোচিত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা ও মহানগর যুবদলের নেতারা রোববার দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম তছলিম দাবি করেন, মোস্তাফিজুর রহমান লিটু যুবদলের কোনো নেতা বা কর্মী নন। তিনি বলেন, “একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনাকে যুবদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছে। বিষয়টি সারা দেশে ভাইরাল হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। লিটু কখনোই আমাদের সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না।”
এর আগে গত বৃহস্পতিবার আজিজ আদালতে নালিশি মামলা করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, আব্দুল আজিজের কক্ষে চারজন যুবক ঢুকে পড়েন। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নামের এক যুবক আজিজকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তার অণ্ডকোষ চেপে ধরে দুটি চেক ও একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। মারধরের সময় আজিজ “বাচ্চু-বাচ্চু” বলে ডাকাডাকি করেন। ডাক শুনে আরেক ব্যক্তি কক্ষে ঢুকলে লিটুর সঙ্গীরা ধাক্কাধাক্কি করে তাকে বের করে দেন। পরে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে তা হস্তান্তরের দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও আবুল কালাম আজাদ। এর আগে গত ২৭ জুন রাতে সদর রোডে অফিস কক্ষে বাকলা ডেভেলপার্স প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও অগ্রণী হাউজিং কোম্পানির এমডি মো. আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে মারধর ও নির্যাতন করে স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নির্যাতিত ব্যক্তি মো. আব্দুল আজিজ হাওলাদার বাকলা ডেভেলপার্স প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও অগ্রণী হাউজিং কোম্পানির এমডি। তিনি বলেন, হামলাকারী মোস্তাফিজুর রহমান লিটুর সঙ্গে আবুল কালাম আজাদ ও আ. মালেক দূরানী ছিলেন। তারা পূর্ব পরিচিত ও ব্যবসায়িক পার্টনার। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও আবুল কালাম আজাদ বাকলা ডেভেলপার্স প্রাইভেট লিমিটেডের শেয়ারহোল্ডার ছিলেন। ২০২৩ সালে সমস্ত শেয়ার বিক্রি করে তারা দেনা-পাওনা বুঝে নেন। আর মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও আ. মালেক দূরানী অগ্রণী হাউজিং কোম্পানির সাথে জড়িত ছিলেন। কোম্পানিটিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত ২৭ জুন শনিবার রাতে বাকলা ডেভেলপার্স প্রাইভেট লিমিটেডের অফিসে এসে তারা আমাকে মারধর করে স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর নেয়। পরে থানায় নিয়ে অভিযোগ দেয় টাকা পাওয়ার। সেই অভিযোগ অনুযায়ী সালিশের ব্যবস্থাও করা হয়। এর মধ্যে মারধরের কারণে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। পরে সুস্থ হয়ে আদালতে মামলা করি। আমি এখনও ভয়ে আছি। তারা যে কোনো সময় আমার ওপর হামলা করতে পারে। এ ঘটনায় আমি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি এবং ন্যায্য বিচার আশা করছি।
মামলার আইনজীবী মো. আবদুল রশীদ খান বলেন, বাদীকে মারধর করে একটি লিখিত ও ব্ল্যাঙ্ক চেক নেওয়া হয়েছে। ছয়টি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার ভিডিও আদালতে দেখানো মাত্র আদালত এফআইআর দেওয়ার নির্দেশ দেন। এটি সন্ত্রাসী কার্যক্রম।
এদিকে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু দাবি করেন, পাওনা টাকা না পাওয়ায় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। মো. আব্দুল আজিজ হাওলাদার আমাদের পাওনা টাকা আত্মসাৎ করে রেখেছেন। ফলে আমরা পারিবারিক কষ্টে আছি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওতে লিটুকে যুবদল নেতা বলা হওয়ায় বরিশাল মহানগর ও জেলা যুবদল সংবাদ সম্মেলন করে তার সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে।
এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আশিক সাঈদ বলেন, ডিবি ও মেট্রোপলিটন পুলিশের একাধিক টিম অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালাচ্ছিল। দুপুরের দিকে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কোনো ধরনের অপরাধের সাথে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন