শাহরাস্তিতে ‘ক্যারফা ফারুক’ বলায় সংঘর্ষ, ১০ দোকান ভাঙচুর

আবু মুছা আল শিহাব, শাহরাস্তি (চাঁদপুর) প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম
শাহরাস্তিতে ‘ক্যারফা ফারুক’ বলায় সংঘর্ষ, ১০ দোকান ভাঙচুর

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ‘ক্যারফা ফারুক’ বলাকে কেন্দ্র করে দু'পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ১০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে ৮ জন আহত হয়েছেন। শনিবার রাতে উপজেলার খিলা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাজারের প্রসাধনী ব্যবসায়ী টিটু ও অপর ব্যবসায়ী ফারুক হোসেনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সন্ধ্যায় ফারুক হোসেনকে ‘ক্যারফা ফারুক’ হিসেবে আখ্যায়িত করাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। রাতে উভয় পক্ষ (খিলা বাজার ও পাথৈর গ্রামের) লোকজন জড়ো করে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় উত্তেজিত লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে বাজারে হামলা করে প্রায় ১০টি দোকান ভাঙচুর করে।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে নোমান নকশা হাউস, জনতা ফার্মেসি, জহিরুল ইসলামের বেডিং স্টোর, মাস্টার টেলিকম, সাইফুল স্টোর, সেবা ফার্মেসি, মেডিসিন কর্নার, ফয়েজের হোটেল, ফজর আলী সুবেদারের স মিল এবং একটি সেলুন। এছাড়াও বেশ কয়েকটি দোকানে ভাঙচুরের চেষ্টা চালানো হয়। এ ঘটনায় ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন জিনিসপত্রের ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ব্যবসায়ী নোমান হোসেন জানান, তার দোকানের মোটর লুট করে নেওয়া হয়েছে। সাইফুল স্টোরের স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম জানান, তার দোকানের প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

খবর পেয়ে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

আহতরা হলেন ইউপি সদস্য ফারুক হোসেনের ছেলে ফাহিম হোসেন, ব্যবসায়ী মিঠু, ফল ব্যবসায়ী আমির হোসেন, ব্যবসায়ী অপু এবং আনু মিয়ার ছেলে সবুজ। এছাড়াও অনেকেই আহত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি। উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এএন