বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমি লঘুচাপের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকায় টানা চার দিন ধরে চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের সঙ্গে সারাদেশের সব ধরনের নৌ যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ফেরি, লঞ্চ, স্টিমারসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় হাজারো যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও প্রবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। একই সঙ্গে ঘাটে আটকা পড়েছে শতাধিক পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে। সমুদ্র ও নদী উত্তাল থাকায় যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সন্দ্বীপের সঙ্গে সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
নৌ চলাচল বন্ধ থাকায় ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতকারী মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সন্দ্বীপ থেকে কেউ মূল ভূখণ্ডে যেতে পারছেন না, আবার মূল ভূখণ্ড থেকেও কেউ সন্দ্বীপে প্রবেশ করতে পারছেন না। জরুরি চিকিৎসা, চাকরি, ব্যবসা ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে যাতায়াতকারীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস সামনে থাকায় অনেক সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সময়মতো কর্মস্থলে যোগ দিতে না পারার শঙ্কায় রয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে গুপ্তছড়া-কুমিরা নৌরুটে। গুপ্তছড়া ফেরিঘাটে ফেরি ‘কপোতাক্ষ’ শতাধিক যানবাহন নিয়ে আটকে রয়েছে। অপরদিকে কুমিরার বাঁশবাড়িয়া ঘাটে সন্দ্বীপগামী শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চার দিন ধরে অপেক্ষা করছে। এসব যানবাহনে কাঁচামাল, নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক মালামাল থাকায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
ঘাটে আটকে পড়া যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে প্রয়োজনীয় সেবার অভাব। গুপ্তছড়া ফেরিঘাটে পর্যাপ্ত হোটেল-রেস্তোরাঁ, বিশুদ্ধ খাবার পানি, বিশ্রামাগার ও ওয়াশরুমের ব্যবস্থা না থাকায় নারী, শিশু, বয়স্ক যাত্রী এবং চালকরা মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। গুপ্তছড়া ও কুমিরা ঘাটের উভয় প্রান্তে শত শত যাত্রী অনিশ্চয়তার মধ্যে অপেক্ষা করছেন।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন